1. admin@sylheteralap24.com : admin :
  2. kolyrahmankhan@gmail.com : editor : Jillur khan
  3. s.mahmud7612@gmail.com : Sultan Mahmud : Sultan Mahmud
  4. shakilpress2020@gmail.com : Shakil Ahmed : Shakil Ahmed
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৫ অপরাহ্ন

ঘর পাচ্ছেন সাফজয়ী গোলরক্ষক ইয়ারজানের প রি বা র

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১২ মার্চ, ২০২৪

পঞ্চগড় প্রতিনিধি :বাবা অসুস্থ, দিনমজুর মায়ের আয়েই চলে ৪ সদস্যের সংসার। এই পরিবার থেকে উঠে এসেছেন বাংলাদেশের সাফজয়ের নায়ক গোলরক্ষক ইয়ারজান বেগম। জরাজীর্ণ থাকার ঘরে নেই কোনো আসবাবপত্র, বাড়িতে নেই ভালো টয়লেট ব্যবস্থাও। এ অবস্থায় পরিবারটিকে থাকার উপযোগী ঘর করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (১২ মার্চ) ইয়ারজানের বাড়িতে গিয়ে জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম তার বাবা-মার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এ আশ্বাস দেন। এ সময় উপহার হিসেবে নগদ ২৫ হাজার টাকাও তুলে দেন তাদের হাতে।

এদিকে ইয়ারজানের এমন সাফল্যের গল্প শুনে তার বাড়িতে উপহার নিয়ে ছুটে যান নীলফামারী র‌্যাব-১৩ এর অধিনায়ক। বিকেলে ইয়ারজানের বাড়িতে গিয়ে টিমসহ তার বাবা-মার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন অধিনায়ক আরাফাত ইসলাম। এ সময় উপহার হিসেবে নগদ ২০ হাজার টাকা ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন তাদের হাতে।

ইয়ারজান বেগমের বাড়ি পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের খোপড়াবান্দি গ্রামে। তিনি সেখানকার আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে। ইয়ারজান সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন নেপালের মাঠে। চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তার দল, টুর্নামেন্টের সেরা গোলকিপারের ট্রফিটাও নিজের করে নিয়েছেন তিনি।

গত রোববার নেপালের মাঠে ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হন ইয়ারজানরা। খেলায় ভারতকে টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। এই অর্জন সম্ভব হয়েছে কেবল গোলরক্ষক ইয়ারজানের বীরত্বেই। ইয়ারজানের এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস বইছে জেলাজুড়ে।

জেলা শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরের প্রত্যন্ত গ্রামে ইয়ারজানদের বাড়ি। সড়কের পাশেই ছোট ছোট দুটি ঘর তাদের। এরমধ্যে একটি ঘর একেবারেই জরাজীর্ণ। একপাশে ছাউনির টিনগুলো খুলে গেছে। সেই ঘরের শোকেজে সাজানো আছে ইয়ারজানের সাফল্যের ক্রেস্ট এবং ট্রফি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইয়ারজানের বাবা আব্দুর রাজ্জাক শারীরিকভাবে অসুস্থ। কোনো কাজ করতে পারেন না। ফলে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মা রেনু বেগমই। রেনু বেগমের উপার্জনেই চলে তাদের সংসার। সম্পদ বলতে তাদের কেবল ভিটেমাটি।

ইয়ারজানের মা রেনু বেগম বলেন, খুব কষ্ট করে আমার মেয়ে এই পর্যন্ত এসেছে। মানুষের কৃষিজমিতে কাজ করে মেয়েকে বড় করেছি। অভাবের সংসারে মেয়েকে তিনবেলা ঠিকমতো খাওয়াতে পারিনি। তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি তাকে সাফল্য এনে দিয়েছে, আমাদের গর্বিত করেছে।

ইয়ারজানের বাবা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মেয়ের সাফল্যে গর্বে আমার বুক ভরে গেছে। বাড়িতে এত মানুষ দেখে খুব ভালো লাগছে আমার। আমার মেয়ে আমাকে অনেক বেশি সম্মান এনে দিয়েছে, এত বেশি প্রত্যাশা কখনোই ছিল না। আমি কিচ্ছু চাই না, শুধু মানুষের ভালোবাসা চাই। আমি চাই আমার মেয়ে ভালো কিছু করুক।

জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম বলেন, সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে আমরা দেখেছি বাংলাদেশ দল চ্যাম্পিয়ন হবার নেপথ্যে সবচেয়ে বেশি অবদান ইয়ারজানের। ইয়ারজান আমাদের সন্তান, সে আমাদের পঞ্চগড়ের মুখ উজ্জ্বল করেছে। আমরা সবসময় তার পরিবারের পাশে আছি।

খবর পেতে সিলেটের আলাপ  লাইক পেইজে ( LIKE ) দিতে ক্লিক করুন

সিলেট আলাপ// তামান্না

 

Facebook Comments Box
এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © সিলেটের আলাপ ২৪
Theme Customized By Shakil IT Park