1. admin@sylheteralap24.com : admin :
  2. kolyrahmankhan@gmail.com : editor : Jillur khan
  3. shakilpress2020@gmail.com : Shakil Ahmed : Shakil Ahmed
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপি নেতাকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন এমপি এমরান আহমদ জৈন্তাপুরে বাসের সাথে সংঘর্ষে প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর সিলেটে মশাল মিছিলের প্রস্তুতিকালে ছাত্রলীগের ৩ নেতা আটক বাংলাদেশ কেমিস্টস্ এন্ড ড্রাগিস্টস্ সমিতির নবগঠিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত গোলাপগঞ্জ উপজেলা এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের নবনির্বাচিত কমিটিকে অনলাইন সংবর্ধনা গোলাপগঞ্জ সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির কমিটি গঠন : সভাপতি দেলোয়ার, সম্পাদক ফাহাদ গোলাপগঞ্জে ২ হাজার ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ইয়াবা উদ্ধার ৮ বছর পর ওসমানী বিমান বন্দরে নামল বিদেশি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সরাইলে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণ, র‌্যাব ধরল শাওনকে সিলেটে ২৫৪ পিস ভারতীয় কম্বলসহ আটক ২

শিক্ষাবঞ্চিত ৪ শতাধিক শিশু, ৫ কিলোমিটার এলাকায় নেই স্কুল

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৩

কানাইঘাট প্রতিনিধি:বিদ্যালয় বিহীন গ্রামে বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ০৪ নং সাতবাঁক ইউপির ০৩ গ্রাম। দীর্ঘ কয়েক যুগ পেরিয়ে গেলেও সেখানে গড়ে উঠেনি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এতে প্রতি বছর শিক্ষাবঞ্চিত হচ্ছে প্রায় চার শতাধিক শিশু। প্রাথমিক স্তরে শিক্ষা না থাকায় গ্রামের মানুষজন নিরক্ষরই রয়ে যাচ্ছে। ফলে শিশু শ্রম, নির্যাতন, মাদকাসক্ত ও বাল্য বিবাহ দিন দিন বেড়েই চলেছে। অবশেষে সরকারি প্রকল্পের সুফল না পেয়ে, গ্রামবাসী নিজেদের অর্থায়নে ও ওয়ার্ড সদস্য শাহিকুল আলমের সহযোগিতায় ২ লাখ টাকা ব্যয়ে চালু করেছেন স্কুল ঘর।

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ০৪নং সাতবাঁক ইউনিয়নের ০৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব ঠাকুরের মাটি, পশ্চিম ঠাকুরের মাটি ও জয়পুর পশ্চিম গ্রাম। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকার এ তিনটি গ্রামে নেই কোনো স্কুল। শিক্ষার অভাবে দিনের পর দিন গ্রামগুলোতে নিরক্ষর মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এমন অবস্থায় গ্রামের নিরক্ষরতা দূর করতে এগিয়ে আসেন স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহিকুল আলম ও পার্শ্ববর্তী চরিপাড়া গ্রামের শিক্ষিত তরুণ ময়নুল হক। ২০১৪ সালে তারা FIVDB(Friends In Village Development Bangladesh) নামক এনজিও এর রেখে যাওয়া জীর্ন ভবনে স্কুল কার্যক্রম শুরু করেন। ‘ঠাকুরেরমাটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ নামে তৎকালীন শিক্ষাসচিব বরাবর দলিলও লিখে দেন তারা। পরবর্তীতে শিক্ষা সচিবের অনুমতিক্রমে একবছর একটি স্কুল পরিচালনা করার পর অর্থাভাবে সেটিও বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে, প্রায় সাত বছর পেরিয়ে যায়, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প থাকলেও স্কুলটিতে পড়েনি কারো নজর। ২০১৪ ও ২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রকল্প ‘বিদ্যালয় বিহীন গ্রামে বিদ্যালয় স্থাপন’ প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে আড়াইহাজার নতুন স্কুল নির্মাণ করা হয়। সে প্রকল্পে স্কুল নির্মাণের জন্য সার্কুলার অনুযায়ী জমির দলিলের ফটোকপিসহ আনুসাঙ্গিক কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়। কিন্তু বিদ্যালয় নির্মাণে সরকারি বরাদ্দ পায়নি বিদ্যালয়টি। । তাই কেউ নগদ টাকা, কেউ টিন, কেউ পিলার, আবার কেউ স্বেচ্ছায় শ্রম দিয়ে স্কুল নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন। ছোট ছোট শিশুরাও নতুন স্কুলে পড়ালেখা করার স্বপ্ন বুনছে। শিশুদের চোখে মুখে নতুন দিনের হাতছানি। তাই তো সারাক্ষণ স্কুল ঘরের সামনেই তাদের খেলার আসর। পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত অন্যান্য এলাকার শিক্ষকগণও দায়িত্ব নিয়েছেন বই সংগ্রহ ও শিশুদেরকে পড়াশোনা করানোর।

পার্শ্ববর্তী চরিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জালাল উদ্দিন জানান, এ তিনটি গ্রামে যুগ যুগ ধরে কোনো স্কুল নেই। আর সে কারণে এখানকার পরিবেশও ভিন্ন। এ গ্রামগুলোকে নিরক্ষতার গ্রামও বলা চলে। সারাদেশে এমন অনেক জায়গা রয়েছে যেখানে একই গ্রামে দুটি করে সরকারি স্কুল। কিন্তু এ গ্রামগুলোতে একটি কিন্ডার গার্টেন স্কুল পর্যন্ত নেই। অথচ পৌরসভার খুব সন্নিকটে এ গ্রামগুলো। তাই তিনি এ এলাকার মানুষের দাবির প্রতি নজর রেখে সিলেট ০৫ আসনের সাংসদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।

কথা হয় গ্রামগুলোর সুবিধাবঞ্চিত কিছু শিশুর সঙ্গে। তারা জানায়, তাদের বাবা-মা এখানে স্কুল না থাকায়, অন্য স্কুলে নিয়ে যায় ভর্তি করান। ভর্তি করালেও অনেক দূরের স্কুল হওয়ায় নিয়মিত ক্লাসও করতে পারে না তারা। অনেকেই আবার স্কুলে যেতে না পেরে বিভিন্ন শিশু শ্রমে যুক্ত হয়। তাই এখানে স্কুলটি হলে গ্রামের সকল শিশু একসঙ্গে স্কুলে পড়তে পারবে।

ইউপি সদস্য শাহিকুল আলম বলেন, ‘আমরা ছোটবেলায় খুব কষ্ট করে লেখাপড়া করেছি। অনেক দূর-দূরান্তের স্কুলে আমাদের যেতে হয়েছে। এ তিনটি গ্রামে কোনো স্কুল না থাকায় প্রতি বছর শতশত ছেলে-মেয়েরা নিরক্ষর হয়ে পড়ছে। তাছাড়া বাল্যবিবাহ, শিশু শ্রম ও গৃহ নির্যাতনও বেড়ে যাচ্ছে। এসব চিন্তা থেকে গ্রামের সকলের পরামর্শে নিজেরাই স্কুলের কার্যক্রম শুরু করেছি। এখন সবার একান্ত প্রচেষ্টায় স্কুল নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। প্রায় সাতবছরে স্কুল নির্মাণে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প এলো আর গেলো কিন্তু আমাদের দিকে কেউ নজর দেয়নি। এখন আমরা স্কুলটিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি কামনা করছি।

ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাইয়্যিব শামিম জানান,আমরা ইউনিয়নের শিক্ষাখাতের বরাদ্দ থেকে বিদ্যালয়টিতে আর্থিক সহযোগিতা করে থাকি। এছাড়াও সিলেট জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মস্তাক আহমদ পলাশ ও বিদ্যালয়টিতে আর্থিক সহযোগিতা করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন বলে জানান তিনি।

এদিকে, সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্কুল নির্মাণ না হওয়ার ক্ষোভ ও আক্ষেপ রয়েছে গ্রামবাসীর। সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্কুলটি ভবিষ্যতে সমৃদ্ধ লাভ করবে এমন প্রত্যাশাও তাদের। তাই তারা আশাবাদী ইউনিয়নের এ গ্রামগুলোতে সরকার দৃষ্টি দিবেন।

খবর পেতে সিলেটের আলাপ  লাইক পেইজে ( LIKE ) দিতে ক্লিক করুন

সিলেট আলাপ/ তৌকির

Facebook Comments Box
এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © সিলেটের আলাপ ২৪
Theme Customized By Shakil IT Park