
সিলেট আলাপ ডেস্ক :থার্টিফার্স্ট নাইটে মায়ের জন্মদিন পালন করেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। সর্বশেষ জন্মদিনে মা’কে উপহার দিয়েছেন বিলাসবহুল গাড়ি। আশরাফ হাকিমি তার সম্পত্তির পুরোটাই লিখে রেখেছেন মায়ের নামে। লিওনেল মেসি নিজের এজেন্টের চেয়ারে বসিয়েছেন বাবা হোর্হে মেসিকে। মা-বাবার সমর্থনে বিশ্বজয় করা এই তারকারা সাফল্য পাওয়ার পর ভুলে যাননি পরিবারের অবদানের কথা। তবে ফুটবল বিশ্বের অনেক খ্যাতনামা তারকা আছেন, যাদের সঙ্গে নেই পরিবারের যোগাযোগ। বাবা-মায়ের কাছ থেকে শৈশবে পাওয়া তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে সম্পর্কও বিচ্ছিন্ন করেছেন তারা। আজ তেমনই পাঁচ ফুটবলারের আলোচনা করা হলো।
এমানুয়েল আদেবায়োর
বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার তার। ফরাসি লিগ ওয়ানের দল মেটজ দিয়ে খেলোয়াড়ি জীবন শুরু করা এমানুয়েল আদেবায়োর খেলেছেন আর্সেনাল, ম্যানচেস্টার সিটি, রিয়াল মাদ্রিদ, টটেনহ্যাম হটস্পারের মতো বড় সব ক্লাবে। উজ্জ্বল ক্যারিয়ারের মালিক আদেবায়োর ব্যক্তিজীবন নিয়ে কখনো সুখি ছিলেন না।
বাবা-মায়ের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল না তার। এক সাক্ষাৎকারে টোগোলিজ এই স্ট্রাইকার বলেছিলেন, ‘আমার পরিবারকে এড়িয়ে চলার জন্য মুহুর্মুহু নিজের ফোন নম্বর পরিবর্তন করতাম আমি।’ আদেবায়োরের অভিযোগ, তার উজ্জ্বল ক্যারিয়ার হোক, সেটি চাইতেন না তার বাবা-মা। শুধু টাকার জন্যই নাকি তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন তারা।

মারিও বালোতেল্লি
২০১২ সালের জুন, মারিও বালোতেল্লির গোলে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে কোয়ালিফাই করে ইতালি। জয়সূচক সেই গোলটি নিজের পালক মা’কে উৎসর্গ করেছিলেন ফুটবলের ‘ব্যাডবয়’ বালোতেল্লি। নিজের জৈবিক মা-বাবা থাকার পরও পালক মা’কে গোল উৎসর্গ করার কারণ কি? নিজের বাবা-মা জীবিত থাকার পরও পালক মায়ের কাছে বড় হয়েছেন বালোতেল্লি। ম্যানচেস্টার সিটি, লিভারপুল, এসি মিলানের হয়ে ইউরোপিয়ান ফুটবল মাতানো এই স্ট্রাইকারের সঙ্গে তার পরিবারের সম্পর্ক ভালো নয়। গণমাধ্যমকে নিজেই জানিয়েছেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে বালোতেল্লি বলেছিলেন, ‘আমি যদি ফুটবলে খ্যাতি অর্জন করতে না পারতাম, তাহলে হয়তো বাবা-মা আমার খোঁজই নিতেন না।’ ইউরোস্পোর্টের খবর, বাবা-মায়ের বৈরী আচরণের শিকার বালোতেল্লি ১৩ বছর বয়সে কারোর দত্তক হতে চেয়েছিলেন। ২০০৮ সালে ১৭ বছর বয়সে পালক মা খুঁজতে সক্ষমও হন তিনি।

ডেলে আলী
ইংলিশ ফুটবলার ডেলে আলীও বড় হয়েছেন পালক পরিবারের কাছে। মাত্র ৬ বছর বয়সে আপন মায়ের বন্ধুর দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তিনি। ইংল্যান্ডের সাবেক ফুটবলার গ্যারি নেভিলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এভারটন তারকা বলেছিলেন, নেশাগ্রস্ত মায়ের অযত্নে শৈশবে অনেক কষ্ট পোহাতে হয় তাকে। ৭ বছর বয়সে ডেলে আলী নিজেও মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। ৮ বছর বয়সে জড়িয়ে পড়েন এর ব্যবসায়। ডেলে আলী বলেন, ‘সে সময় আসাকে এক বয়স্ক ব্যক্তি বলেছিল, আমি বাচ্চা বলে আমাকে কেউ মাদক ব্যবসায় জড়িত বলে সন্দেহ করবে না। আমি ফুটবল নিয়ে এদিক ওদিক ঘুরতাম আর মাদক নিয়ে আসতাম।’ ডেলে আলীর বয়স যখন ১১, তাকে দত্তক নেয় ইংল্যান্ডের একটি পরিবার। ২৭ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার জানান, নতুন পরিবারের অধীনেই তার জীবনে আমুল পরিবর্তন চলে আসে।

ভার্জিল ভ্যান ডাইক
ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার ভার্জিল ভ্যান ডাইক। লিভারপুলের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লীগ, প্রিমিয়ার লীগ জয়ী এই তারকা ফুটবলারের ব্যক্তিগত অর্জনও কম নয়। ২০১৯ সালে একমাত্র ডিফেন্ডার হিসেবে উয়েফার বর্ষসেরা হয়েছিলেন ভার্জিল। সেবার ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়েও ছিলেন তিনি। সমৃদ্ধ ফুটবল ক্যারিয়ারের মালিক ভার্জিলের শৈশবটা ছিল দুঃখে মোড়ানো। ছোটবেলার বাজে স্মৃতির কারণে নিজের পারিবারিক নাম অপছন্দ তার। ভার্জিলের পারিবারিক নাম ‘ভ্যান ডাইক’। গত বছর বৃটিশ দৈনিক দ্য সানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে লিভারপুল তারকার মামা স্টিভেন ফো সিউ জানিয়েছেন, শৈশবে বাবা-মায়ের কলহ দেখে বড় হয়েছেন ভার্জিল। তার বয়স যখন ১২ বছর, বাবা রন ভ্যান ডাইক তার মায়ের সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া করতেন। তাকে মারধর করতেন। এমনকি অন্যত্র বিয়ে করে স্ত্রী-সন্তানদের ছেড়ে চলেও যায় ভার্জিলের বাবা। এ কারণেই পারিবারিক নাম পছন্দ নয় লিভারপুল তারকার। ভার্জিলের মামা ফো সিউ বলেন, ‘ভার্জিলের জীবনে তার মা-ই আসল। বাবার তেমন কোনো ভূমিকা নেই। ভার্জিল তাকে ছোটবেলার ঘটনার কারণে পছন্দ করে না।’

মেম্ফিস ডিপাই
নিজের জার্সিতে ‘মেম্ফিস’ লিখতেই পছন্দ করেন মেম্ফিস ডিপাই। নামের দ্বিতীয় অংশটি তার বাবার নাম থেকে নেয়া। মেম্ফিসের বাবার নাম ডেনিস ডিপাই। মেম্ফিস যখন শিশু ডাচ্ তখন স্ত্রী কোরা শেনসেমা এবং সন্তানকে ছেড়ে চলে যান ঘানাইয়ান নাগরিক ডেনিস। বিয়ে করেন অন্যত্র। যে কারণে নিজের বাবার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক ছিল না মেম্ফিসের। যদিও ২০২২ সালে সাবেক বার্সেলোনা তারকা প্রকাশ্যে বলেন যে, তার বাবার সঙ্গে পুনর্মিলন ঘটাতে চলেছেন তিনি। এরপর ২০২৩ সালের মে মাসে প্রথমবারের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের বাবা ডেনিম ডিপাইয়ের ছবি প্রকাশ করেন মেম্ফিস। তিনি লিখেছিলেন, ‘শৈশবে আমি কী দেখেছি, তার পুনরাবৃত্তি করতে চাই না। আমি অন্য রাস্তা খুঁজছি। আমার আগের জেনারেশন যে ভুলটি করেছে, আমি সেটা করতে চাই না।’
খবর পেতে সিলেটের আলাপ লাইক পেইজে ( LIKE ) দিতে ক্লিক করুন
সিলেট আলাপ// শাকিব
