1. admin@sylheteralap24.com : admin :
  2. kolyrahmankhan@gmail.com : editor : Jillur khan
  3. s.mahmud7612@gmail.com : Sultan Mahmud : Sultan Mahmud
  4. shakilpress2020@gmail.com : Shakil Ahmed : Shakil Ahmed
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন

সেঞ্চুরিতে ফারজানার ইতিহাস

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৩

সিলেটের আলাপ ডেস্ক :২৫শে মার্চ ১৯৯৯ এ বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে প্রথম সেঞ্চুরি করেছিলেন মেহরাব হোসেন অপি। তার ১৮ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে আর কোনো অর্জন না থাকলেও তিনি দেশের ক্রিকেটের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে ইতিহাসের পাতায় তার নাম লেখা আছে থাকবে। ঠিক তার ২৪ বছর পর বাংলাদেশ নারী দলের ফারজানা হক পিংকি সেই একই ইতিহাসে নিজের নাম লিখেয়েছেন। তিনি নারী দলের হয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে তুলে নিয়েছেন প্রথম সেঞ্চুরি। তাও আবার ভারতের মতো দলের বিপক্ষে। মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ১০৭ রানের ইনিংস খেলেন ফারজানা। ৭টি চারের মারে ১৬০ বল খেলে নিজের ইনিংসটি সাজান এই ব্যাটার। তার আগে বাংলাদেশের পক্ষে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ৭৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন রুমানা আহমেদ ও সালমা খাতুন। দারুণ এই অর্জনের পর ম্যাচটি অবশ্য হারতে পারতো বাংলাদেশ। কিন্তু নানা নাটকীয়তা শেষ পর্যন্ত টাই হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ফারজানা জানান তিনি ভীষণ গর্বিত। এমন ইনিংস তাকে এগিয়ে নিবে আরও অনেকটা দূর। তিনি বলেন, ‘আমি সত্যি গর্বিত এমন ইনিংস আমার আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিবে। শুধু আমারই নয় দলে এমন বেশ কয়েকজন ব্যাটার আছে তারা বড় ইনিংস খেলতে পারে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।’
ফারজানার ইনিংসে ভর করে সফরকারী ভারতের বিপক্ষে ৪ উইকেটে ২২৫ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। শুধু তাই নয় ওয়ানডে ক্রিকেটে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় রান। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭ উইকেটে ২৩৪ রান বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। শুধু তাই নয় ওপেনিংয়ে শারমিন সুলতানাকে নিয়ে ৯৩ রানের জুটি গড়েন। যা ভারতের বিপক্ষে সর্বোচ্চ আর দেশের ক্রিকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটির রেকর্ডও। তবে সবকিছু ছাপিয়ে ফরজানার তিন অঙ্কের ম্যাজিক দলকে লড়াইয়ের সুযোগ করে দেয়। ভারতের বিপক্ষে এমন ইনিংসটাও ফারজানাকে আত্মবিশ^াস দিবে বলেও জানান তিনি। ফারজানা বলেন, ‘বড় ইনিংস খেলতে পারলে তো ভালো লাগে। আর ভারতের মতো বড় দলের বিপক্ষে এমন ইনিংস খেলা তো আরও সাহস বাড়ায় সামনে এমন ইনিংস খেলতে।’

অন্যদিকে ফারজানা জানান, সেঞ্চুরির হবে এমনটা ভাবেননি তিনি। তবে যখন ৯০ রানের বেশি করে ফেলেছেন তখন তিনি একটু নার্ভাস হয়ে পড়েন। ৯৮ রানে দাঁড়িয়ে পরপর তিন বলে কোনো ব্যাট ছোঁয়াতে পারেননি। রান আউট হতে হতে অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন তিনি। স্নায়ু চাপে এলোমেলো খেলতে শুরু করেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই চাপ জয় করেই বাউন্ডারি মেরে তিনি পৌঁছে যান ইতিহাসে। ম্যাচ শেষে নিজের সেঞ্চুরি নিয়ে বলেন, ‘আমি পুরো ম্যাচে সেঞ্চুরির জন্য ব্যাট করার কথা ভাবিনি। আমার ফোকাস ছিল বল টু বল। আমাদের অধিনায়ক বলেছিল ২৩০ এর মতো রান করলে জয় সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই ব্যাট করছিলাম। হ্যা, এটি সত্যি যে ৯৬ রান করার পর নার্ভাস লাগছিল। তবে আমি আগে সেঞ্চুরি না করলেও সেঞ্চুরি দেখেছি। যেমন মুশফিক (মুশফিকুর রহীম) ভাইকে সেঞ্চুরি করতে দেখেছি। সবশেষ শান্ত (নাজমুল হোসেন) ভাই দু’টি সেঞ্চুরি করেছে তা দেখিছি। তাদের দেখেছি শেষ সময়টা কি করতে হয়। পেনিংক হলেও পরে চিন্তা করেছি দলের রান ২শ’র উপরে নিতে হবে। চারও দরকার ছিল। তাই বলের দিকেই মনোযোগ দিয়েছি। তখন অন্য কোনোকিছুই আমার মাথায় ছিল না।’

২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতেও সেঞ্চুরি করেছিলেন ফারজানা। বাংলাদেশের হয়ে দুই সংস্করণে সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটার তিনিই। গতকাল ফারজানা ফিফটিতে পা রাখেন ৯৭ বলে। সেখান থেকে রানের গতি বাড়ান। গরমের কারণে ফিজিওর সহায়তা নিতে হয় কয়েকবার তাকে। তবে হাল ছাড়েননি।

৪৮তম ওভারে শেফালি ভার্মার বলে বাউন্ডারিতে পূরণ করেন স্বপ্নের সেঞ্চুরি। আগের ম্যাচে ৪৭ রান করে আউট হয়েছিলেন। আর তাই সতির্থ, বন্ধু ও আত্মীয়রা আফসোস করেছিলেন। সেটিই ফারজানাকে সেঞ্চুরি করার স্বপ্ন দেখিয়েছে। অন্যদিকে অধিনায়ক নীগার সুলতানা জ্যোতিকে তার এই সেঞ্চুরি কৃতীত্ত দেন। খুনসুটি করে বলেন, ‘আমাদের অধিনায়ক জ্যোতি সবসময় বলতো যে আমি সবার আগে সেঞ্চুরি করবো। আমি আগে সেঞ্চুরি করবো। তার এই কথার কোনো জবাব দিতাম না। আজ সেঞ্চুরি দেখিয়ে দিলাম যে আমি আগে করবো। সত্যি কথা বলতে ওর জন্যই আমার সেঞ্চুরিটা হয়েছে।’ তার এই কথা বলার সময় পাশে বসে হাসছিলেন অধিনায়ক হয়তো মনে মনে বলছিল পরের সেঞ্চুরিটা আমিই করবো!

Facebook Comments Box
এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © সিলেটের আলাপ ২৪
Theme Customized By Shakil IT Park