
মিলাদ জয়নুল :নির্বাচনে সিলেট-৬ বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ নির্বাচনী আসনে ভোটার উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। গত কয়েকটি সংসদ নির্বাচনের তুলনায় শেষ হওয়া নির্বাচনে এই আসনে ভোটার উপস্থিতির এমন করুণদশা নিয়ে বহু প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে। অথচ তার মধ্যে বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ উপজেলার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল। এখান থেকে ৬ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেলেও ফলাফল ঘোষণার পর সেই ধারণা পাল্টে যায়। মূলত আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং একই দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী সরওয়ার হোসেনের মধ্যে বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে।
জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান স্বাক্ষরিত ফলাফলপত্রে দেখা যায়, সিলেট-৬ বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ আসনে মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৭০২ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এরমধ্যে ২১৩০টি ভোট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এই আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নুরুল ইসলাম নাহিদ ৫৭ হাজার ৭৭৮ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঈগল প্রতীকের সরওয়ার হোসেন ৩৯ হাজার ৪৮৮ ভোট, তৃণমূল বিএনপি’র শমসের মুবিন চৌধুরী সোনালী আঁশ প্রতীকে ১০ হাজার ৯৩৬ ভোট, জাতীয় পার্টির সেলিম উদ্দিন লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ৫ হাজার ৫৭৯ ভোট পেয়েছেন। অপর দুই প্রার্থী ইসলামী ঐক্যজোটের সাদিকুর রহমান ৬২২ ভোট এবং বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের আতাউর রহমান ১৬৯ ভোট পান। বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ উপজেলায় মোট ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ৭২ হাজার ৭৪৯ জন।
এই আসনে মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৯২টি। এত বিপুলসংখ্যক ভোটারের মধ্যে মাত্র ২৪.৬৯ ভাগ ভোটার ভোট প্রদান করেছেন বলে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্র জানায়।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বিয়ানীবাজার শাখার সভাপতি এডভোকেট মো. আমান উদ্দিন মনে করেন, আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থী মিলিয়েও ১ লাখ ভোট পাননি। তার মানে আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যক ভোটারও ভোট দিতে যাননি। তাছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী এই আসনে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার ভোট পেয়েছেন। দলীয় ভোট বিবেচনায় সিলেট-৬ আসনে জাপা এত দুর্বল নয়। ভোটের দিন দুপুর থেকে বিয়ানীবাজার উপজেলার বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে ভোটার উপস্থিতির দৈন্যদশা দেখা যায়। বেলা ১টার পর থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ, পিএইচজি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, খাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খশির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তেরাদল-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে হাতেগোনা ভোটার উপস্থিতি দেখা যায়। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ছিল খশির সরকারি বিদ্যালয় কেন্দ্রে। ভোটার উপস্থিতির এমন করুণ অবস্থা নিয়ে দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসারদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও তারা কেউ মুখ খুলতে রাজি হননি। তবে কিছুটা ব্যতিক্রম ছিল বিয়ানীবাজার পৌরসভার একাধিক কেন্দ্র। কসবা, শ্রীধরা, নিদনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল থেকে ভোটার উপস্থিতি ছিল মোটামুটি আশাব্যঞ্জক। এই আসনে নারী ভোটারদের অনুপস্থিতি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। ভোটার উপস্থিতি কম নিয়ে সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে ট্রল করতে থাকেন স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বেশ উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে।
খবর পেতে সিলেটের আলাপ লাইক পেইজে ( LIKE ) দিতে ক্লিক করুন
সিলেট আলাপ// সাকিব
