
নিউজ ডেক্স:
নির্বাচন যত আগাচ্ছে নির্বাচনের মুড় তত পরিবর্তন হচ্ছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) গুরুপূর্ণ এই আসনটি হঠাৎ নতুন আলোচনায় শুরু হয় গত বৃহস্পতিবারে। বর্তমান সংসদ নুরুল ইসলামদের নৌকা মার্কা প্রচারনা চলাকালীন সময় তলব আসে কেন্দ্র থেকে। দুপুর ১২টায় বিমানের ফ্লাইট ধরে ঢাকায় যান তিনি। প্রায় ৪০ মিনিট তাকে নিয়ে বৈঠক করা হয়। বৈঠকে কি কথা হয়েছে জানা যায়নি।
এরপর থেকেই আসন জুড়ে শুরু হয় নতুন গুঞ্জন। এদিকে গোলাপগঞ্জ উপজেলার আওয়ামী ঘরানার বড় একটি অংশ প্রচারণায় প্রকাশ্যে নেমে যাওয়ায় গুঞ্জনে নতুন মোড় নিয়েছে সাধরণ মানুষদের কাছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে বড় একটি মটর শোভা যাত্রা মধ্য দিয়ে গোলাপগঞ্জ পৌর শহরের অভিজাত সেন্টারে সোনালী আঁশ প্রতীকের প্রার্থী শমসের মুবিন চৌধুরীর পক্ষে সভা করতে দেখা যায় আওয়ামীলীগের একাংশের সাথে। তার আগে গত বুধবার ঢাকায় যান তৃণমূল বিএনপির সভাপতি শমসের মুবিন চৌধুরীও। ঢাকা সফরে কার সঙ্গে কোথায় আলোচনা করেছেন সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তিনি ব্যক্তিগত কাজে ১২ ঘণ্টার সফরে ঢাকায় গিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তৃণমূল বিএনপি’র গোলাপগঞ্জের আহবায়ক সানাউর রহমান।
এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করলেও পাওয়া যায়নি বক্তব্য।
এ নিয়ে সোনালী আঁশ প্রতীকের প্রার্থী শমসের মুবিন চৌধুরী বীর বিক্রম বলেন, দল মত নির্বিশেষে সকলকে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশকে শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে পরিচালিত করতে এবং মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ২০৪১ সালে মধ্যে মধ্য আয় থেকে আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের মান চিত্রে তুলে ধরতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
এখন বিষয়টি ভোটার, সমর্থক এমকি আসনটি সাধারণ মানুষের মুখে মুখে নতুন সমীকরণ সৃষ্টি হয়েছে।
সরজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, সময় যত যাচ্ছে নৌকার প্রার্থী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে টেক্কা দিয়ে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী শমসের মুবিন চৌধুরী পাল্লা ভারী হচ্ছে। সাথে আছেন আওয়ামীলীগের আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী সাওয়ার হোসেন। অনেক ভোটারের মুখে শুনা যাচ্ছে আসনটিতে পালা বদলের হাওয়া লেগেছে। তবে শেষ পর্যন্ত কে বিজয়ের মালা পড়বেন এ নিয়ে শক্ত অবস্থানে প্রচারনা চালাচ্ছেন এই তিন প্রার্থী।
এ নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলেন, সিলেট-৬ আসনে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা যাতে উন্মুক্ত ভাবে কাজ করতে পারেন। এজন্য কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়াও তৃণমূল বিএনপির সভাপতি বীর বিক্রম শমসের মুবিন চৌধুরীর পক্ষেও কাজ করার নির্দেশনা আছে। এজন্য আমরা তার পক্ষে প্রকাশ্যে নেমেছি।
তবে তফসিল ঘোষনার পর থেকে মাঠে অনেক প্রার্থী দেখা গেলেও সর্বশেষ ৬ জন প্রার্থী নমিনেশন জমা দেন। তারা হলেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী আওয়ামী লীগের নুরুল ইসলাম নাহিদের প্রতীক নৌকা মার্কা, তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপার্সন সমশের মুবিন চৌধুরী বীর বিক্রম প্রতীক সোনালী আঁশ, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কানাডা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সরওয়ার হোসেনের প্রতীক ঈগল মার্কা, সিলেট ৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী সেলিম উদ্দিনের প্রতীক লাঙ্গল মার্কা, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট মনোনীত আতাউর রহমানের প্রতীক ছড়ি ও ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী সাদিকুর রহমানের প্রতীক মিনার মার্কা।
যার মধ্যে সবার মননোয়ন বৈধ্য ঘোষনা করে নির্বাচন কমিশন। এই আসনে চারজন এ হেভিওয়েট প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সর্বশেষ আলোচনায় রয়েছেন তিন প্রার্থী।
এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪,৭২,৭৫৩ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ২,৩৭,৪৯৪ জন ও নারী ভোটার সংখ্যা ২,৩৫,২৫৮ জন এবং হিজড়া ভোটার সংখ্যা ১ জন রয়েছেন। বড় এই ভোটার সংখ্যার মধ্যে চার হেভিওয়েট প্রার্থী রয়েছেন। যার কারণে এই আসনে চতুর মুখী নির্বাচন হওয়ার কথা থাকেলে সর্বশেষ রয়েছেন তিনজন। অন্যদিকে ঢামী নির্বাচন বর্জনের ঘোষণায় বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িছে। যার কারণে এই আসনে থাকছে না বিএনপি মনা কোন প্রার্থী।