1. admin@sylheteralap24.com : admin :
  2. kolyrahmankhan@gmail.com : editor : Jillur khan
  3. shakilpress2020@gmail.com : Shakil Ahmed : Shakil Ahmed
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপি নেতাকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন এমপি এমরান আহমদ জৈন্তাপুরে বাসের সাথে সংঘর্ষে প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর সিলেটে মশাল মিছিলের প্রস্তুতিকালে ছাত্রলীগের ৩ নেতা আটক বাংলাদেশ কেমিস্টস্ এন্ড ড্রাগিস্টস্ সমিতির নবগঠিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত গোলাপগঞ্জ উপজেলা এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের নবনির্বাচিত কমিটিকে অনলাইন সংবর্ধনা গোলাপগঞ্জ সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির কমিটি গঠন : সভাপতি দেলোয়ার, সম্পাদক ফাহাদ গোলাপগঞ্জে ২ হাজার ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ইয়াবা উদ্ধার ৮ বছর পর ওসমানী বিমান বন্দরে নামল বিদেশি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সরাইলে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণ, র‌্যাব ধরল শাওনকে সিলেটে ২৫৪ পিস ভারতীয় কম্বলসহ আটক ২

এতিম শিশুদের হাহাকারে ভারি গাজার হাসপাতাল

  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৩

সিলেট আলাপ ডেস্ক :মাথায় গুরুতর আঘাত, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং পা ও হাত ভাঙা অজ্ঞান অবস্থায় এক মাস আগে গাজার আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে আনা হয়েছিল আহত নয় বছর বয়সী রাজান শাবেতকে।

প্রথম চার দিনের জন্য তাকে “১০১ অজানা” হিসাবে তালিকাভুক্ত করেছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কারণ ইসরায়েলি হামলায় তার পরিবারের কেউ বেঁচে নেই। আর হাসপাতালেই কেউ জানত না সে কে।

বর্তমানে জরুরী চিকিৎসা থেকে ছাড়া পেয়ে হাসপাতালের কম্পাউন্ডের একটি তাঁবুতেই থাকছে শাবেত, কিন্তু এখনও তাকে কেউ জানায়নি যে তার বাবা-মা উভয়ই মারা গেছেন।

শাবেত হাসপাতালে ভর্তির সপ্তাহখানেক পরে চিকিৎসকরা জানতে পারেন যে, ইসরায়েলি আগ্রাসন থেকে বাঁচতে উত্তর গাজার তুফাহ শহর থেকে পালিয়ে মধ্য অঞ্চলের নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিল শাবেত ও তার পরিবার। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তাদের। সেখানেও ইসরায়েলের ভয়াবহ বর্বর হামলায় শাবেত ছাড়া তার পরিবারের সবাই নিহত হয়।

নভেম্বরে দেইর এল-বালাহ শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় পরিবারের ৫৮ সদস্য নিহত হওয়ার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে থেকে উদ্ধার করা হয় মাত্র পাঁচ দিন বয়সী শিশু হাসান মেশমেশকে। শিশুটি এখন আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আছেন।

হাসপাতালের নার্স ওয়ার্দা আল-আওদা আল জাজিরাকে জানান যে, “পুরো নার্সিং ক্রু হাসানের যত্ন নেয়, আমরা তাকে তিনি নিরাপদ বোধ করার চেষ্টা করি।“

অবশেষে শিশুটির দূরের এক আত্মীয়কে খুঁজে পাওয়া গেছে বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে হাসানের দেখাশোনা সেই আত্নীয়ই করছেন।

গত ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ড গাজাতে ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বিমান হামলা এবং অভিযানে উপত্যকাটিতে ৮২০০ জনেরও বেশি শিশু নিহত হয়েছে।

এছাড়া আহত শিশুদের বেশিরভাগই গভীরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত। মুহূর্তের মধ্যে গাজায় অসংখ্য শিশু পরিবারের সবাইকে হারাচ্ছে। শুধু তা-ই নয়। নিজেরাও হচ্ছে পঙ্গু।

বাবা-মাসহ পরিবারের অনেক সদস্যকে হারিয়েছে হাজার হাজার শিশু। ভবিষ্যতে তাদের দেখাশোনা করার জন্য কেউ নেই। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানেন না তারা এই শিশুদের কীভাবে কোথায় রাখবেন বা কী করবেন। এই শিশুদের যাওয়ার জন্য কোথাও কেউ নেই।

আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ ইব্রাহিম মাত্তার বলেন, “হাসপাতালে ভর্তির পঞ্চম দিনে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই শাবেত তার বাবা-মায়ের সম্পর্কে জানতে চাচ্ছিল।“

তিনি বলেন, ‘আমরা সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন যেটি পেয়েছি সেটি এমন শিশুদের কাছ থেকে যারা আমাদের জিজ্ঞাসা করছে যে তাদের বাবা বা মা কোথায়, এবং ইতিমধ্যেই তাদের বাবা-মা নিহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘যখন সে জিজ্ঞাসা করেছিল, আমি শুধু চুপ করে ছিলাম এবং শিশুটিকে বলেছিলাম যে সে ঠিক আছে।‘

মাত্তার আরও বলেন, “এই শিশুরা খুব বুদ্ধিমান এবং খুব সুন্দর। কিন্তু সে জানে না তার পরিবারকে হত্যা করা হয়েছে, সে বিশ্বাস করে তার পরিবারের সবাই ঠিক আছে। এবং আমরা তাকে সত্যটা বলতে পারি না।

মাত্তার বলেন, ইসরায়েলের বিমান হামলার পর হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদের একটি বড় অংশ হচ্ছে শিশু, এবং তাদের যত্ন নেওয়া ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে চিকিৎসকদের জন্য।

এই চিকিৎসক আল জাজিরাকে জানান যে, কিছু কিছু শিশু একাকী অবস্থায় ব্যথায় কাতরাতে থাকে, তাদের দেখার মত কেউ নেই। এমন অবস্থায় তাদের কষ্ট কমাতে ব্যথানাশকের অতিরিক্ত ডোজ দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। অনেক সময় শিশুদের শান্ত রাখতে তাদের সাথে গল্প করেন চিকিৎসকরা। কিন্তু সে সুযোগ খুব কম পাওয়া যায়।

একাকী শিশুদের প্রচণ্ড ব্যথা কমাতে এবং তাদের শান্ত রাখার একমাত্র বিকল্প হয়ে উঠেছে ব্যথানাশকের অতিরিক্ত ডোজ। অনেক ক্ষেত্রে, বাচ্চাদের জন্য কোন উপযুক্ত ওষুধ পাওয়া যায় না, সে সময় পরিস্থিতি খুব জটিল হয়ে উঠে।

এসব এতিম শিশুদের ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন মাত্তার।

প্রতিদিন আরও বেশি আহত শিশুর আসার পাশাপাশি, মা-বাবাহীন এসব শিশুদের জন্য গাজার হাসপাতালগুলো যেন তাদের বাড়িতে পরিণত হয়েছে।

খবর পেতে সিলেটের আলাপ  লাইক পেইজে ( LIKE ) দিতে ক্লিক করুন

সিলেট আলাপ// আজহার

 

Facebook Comments Box
এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © সিলেটের আলাপ ২৪
Theme Customized By Shakil IT Park