
সিলেট আলাপ ডেস্ক :সিলেট নগরীর সুবিদবাজার এলাকার ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে ২৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা চুরির ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া আসামিরা নেশা ও জুয়ায় আসক্ত। তারা এর আগেও নারায়ণগঞ্জের আটটি এটিএম বুথ থেকে ৯ লাখ টাকা সরিয়েছে।
এ তথ্য জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর-গণমাধ্যম) আজবাহার আলী শেখ।
রোববার সকালে নগরীর আম্বরখানা পুলিশ ফাঁড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, লোভের বশবর্তী হয়ে তারা ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে এই টাকা চুরি করেছে। চুরি করা ২৬ লাখ ৩২ হাজার টাকার মধ্যে ১৮ লাখ ৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের দেওয়া তথ্যমতে আলবাবের বসতঘর থেকে ১০ লাখ, নুরুলের দক্ষিণ সুরমার কদমতলী এলাকার স্বর্ণশিখা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে ৫ লাখ ৩৫ হাজার এবং নুরুলের কাছ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার, আমিনুলের বসতঘর থেকে ২১ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
বাকি টাকার মধ্যে ৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকা আসামিরা বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা রেখে দিয়েছেন এবং ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা তারা খরচ করে ফেলেছেন বলে জানান তিনি।
আজবাহার আলী শেখ আরও বলেন, ‘আলবাব ও আমিনুল সিকিউরেক্স প্রতিষ্ঠানের এটিএম কর্মকর্তা। মুন্না আমিনুলের বন্ধু। তারা এর আগেও নারায়ণগঞ্জের আটটি এটিএম বুথ থেকে ৯ লাখ টাকা সরিয়েছে। যা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ হয়তো এখনো জানেও না। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমরা আদালতে রিমান্ড আবেদন করব।’
শনিবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার মতিঝিল থানাধীন সাজেদা টাওয়ারস্থ সিকিউরেক্স কোম্পানির অফিস থেকে মোগলাবাজার থানার নৈখাই পূর্বপাড়া গ্রামের আমিনুল হক (২৪) ও ভৈরব থানাধীন উজানভাটি হোটেলের সামনে থেকে মোগলাবাজার থানার নৈখাই মাঝপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলাম মুন্নাকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়। এর আগে পুলিশ গ্রেফতার করে জকিগঞ্জ উপজেলার হাতিডহর গ্রামের হোসাইন আহমদের ছেলে আলবাব হোসেন লিমনকে (২২)।
এর আগে, গত ২৮ অক্টোবর রাতে নগরীর সুবিদবাজার এলাকার ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে ২৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা চুরি হয়। এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে বিমানবন্দর থানায় কোম্পানির এটিএম অফিসার আলবাব হোসেন (২২) ও আমিনুল হককে (২৪) আসামি করে মামলা করেন সিকিউরেক্স প্রাইভেট কোম্পানি লিমিটেডের সিলেট জোনের এটিএম বুথ ইনচার্জ সন্দীপন দাস। মামলার পরপরই পুলিশ আলবাবকে গ্রেফতার করে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২৭ অক্টোবর সিলেট নগরীরডাচ্ বাংলা ব্যাংকের সুবিদবাজারস্থ এটিএম বুথসহ অন্যান্য বুথে টাকা ভরা হয়। ৩০ অক্টোবর সকালে ঢাকা সিকিউরেক্স প্রাইভেট কোম্পানি লিমিটেডের অফিস থেকে জানানো হয়, সুবিদবাজারস্থ এটিএম বুথে ক্যাশ জ্যাম হয়েছে। খবর পেয়ে কোম্পানির সহকারী এটিএম অফিসার সুজন মিয়া ও সায়েম আহমদকে ওই দিন দুপুর ২টায় এই এটিএম বুথে সরেজমিনে পাঠানো হয়।
তাঁরা পরীক্ষা করে দেখেন, এটিএম বুথের প্রিন্ট অনুযায়ী ২৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বুথে জমা থাকার কথা থাকলেও মাত্র ১ লাখ ৪৩ হাজার টাকা রয়েছে। অর্থাৎ ২৬ লাখ ৩২ হাজার টাকার গড়মিল পাওয়া গেছে। ঘটনাটি জানতে পেরে বাদী নিজেও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিস্তারিত জেনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।
৩১ অক্টোবর ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজ অপারেটর এলে তাঁদের মাধ্যমে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২৮ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৫ মিনিট থেকে ১২টা ১৫ মিনিটের মধ্যে মাথায় কালো ক্যাপ, মুখে মাস্ক ও চোখে চশমা পরা উল্লেখিত বিবাদীরা এটিএম বুথের মেশিন খুলে ২৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা চুরি করে ব্যাকপ্যাকে ভরে নিয়ে গেছেন। পরবর্তীতে তাঁরা নিশ্চিত হন যে, তাঁদের কোম্পানির এটিএম অফিসার আলবাব হোসেন ও আমিনুল হক ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
খবর পেতে সিলেটের আলাপ লাইক পেইজে ( LIKE ) দিতে ক্লিক করুন
সিলেট আলাপ/ সাকিব
