
ওয়েছ খছরু :রাজধানীর বনানীর টিএন্ডটি’র পাশে শতকোটি টাকার ভূমি নিয়ে এবার প্রতারণা মামলা করেছেন সিলেটের এক ব্যবসায়ী। তিনিসহ চার ব্যবসায়ী ওই ভূমি নিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে মামলা এজাহারে দাবি করেন। সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সুমন ভূঁইয়া অভিযোগটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার বাদী সিলেটের আখালিয়া জালালিয়া আবাসিক এলাকার সোহেল আহমদ চৌধুরী। গত ৫ই অক্টোবর দায়ের করা মামলায় আসামি করা হয়েছে; ঢাকার হাতিরঝিলের চেয়ারম্যান গলির বাসিন্দা নুরুল ইসলাম ও ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার বন্ধুয়া দৌলতপুর গ্রামের আব্দুল রহমানের ছেলে রফিকুল ইসলাম। সোহেল ছাড়াও তাদের কাছে প্রতারণার শিকার হয়েছেন ঢাকার ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম, সিলেটের আলী আহমদ ও আব্দুর রাজ্জাক। তাদেরকে মামলার সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে।
এজাহারে সোহেল চৌধুরী জানিয়েছেন- খাদিমনগর এলাকার নিজাম চৌধুরীর মাধ্যমে ২০১৪ সাল থেকে চেয়ারম্যান গলির বাসিন্দা নুরুল ইসলাম ও রফিকুল আলমের সঙ্গে পরিচয় তার। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে ঢাকায় নুরুল ইসলামের মালিকানাধীন ভূমিতে বিনিয়োগে রাজি হন। এই ভূমি বিক্রি করে সোহেল চৌধুরীসহ বিনিয়োগকারীদের ৫০ কোটি টাকা দেয়া হবে বলে জানিয়ে চুক্তি করা হয়। এরপর সোহেল চৌধুরীসহ বিনিয়োগকারীরা একে একে ওই ভূমির খাজনা পরিশোধসহ নানা খাতে ৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন।
বিনিয়োগের টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টসহ বিভিন্ন খাতে প্রেরণ করা হয়। একই সময় লভ্যাংশযুক্ত করে মামলার আসামি রফিকুল আলম বিনিয়োগকারী সোহেল চৌধুরীকে ৪ কোটি ৯০ লাখ টাকার ব্যাংক এশিয়ার মীরপুর শাখার একটি চেক হস্তান্তর করেন। কিন্তু জমি বিক্রিতে নানা টালবাহানা এবং টাকা আত্মসাতের পাঁয়তারা করায় গত ৮ই আগস্ট রফিকুল আলমের দেয়া চেক ব্যাংকে ডিজঅনার হয়। এ ঘটনায় সিলেটের আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সোহেল চৌধুরী জানিয়েছেন- তাদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী তারা জমি বিক্রির জন্য ক্রেতা খুঁজতে থাকেন। কয়েকজন গ্রহণযোগ্য ক্রেতাও পেয়ে যান। কিন্তু ওই ক্রেতাদের কাছে নানা টালবাহানা করে ভূমি বিক্রি করেননি নুরুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম। এতে তাদের প্রতারণার বিষয়টি সন্দেহ হয়। পরে চেকও ডিজঅনার হয়। এ ঘটনার পর পর সোহেল চৌধুরীর পক্ষ থেকে আইনি নোটিশ পাঠানো হলে সেটির জবাব দিয়েছেন নুরুল ইসলাম ও রফিকুল আলম। সেখানে তাদের বক্তব্য অস্পষ্ট থাকায় পরবর্তীতে তিনি মামলা দায়ের করেছেন।
সোহেল চৌধুরী জানিয়েছেন- বার বার বলা হচ্ছে আমাদের পক্ষ থেকে জমি বিক্রির চেষ্টা করিনি। কিন্তু বিষয়টি ঠিক নয়। বরং জমি বিক্রির জন্য আমরা বার বার ক্রেতা খুঁজে আনলেও তারা প্রতারণা করে। এতে করে বিনিয়োগকারী আমিসহ চার বিনিয়োগকারী পথে নেমেছি। এখন ওরা আমাদের ফোন ধরছে না। ওরা শুধু আমাদের কাছ থেকেই নয়, অনেকের কাছ থেকে জমি বিক্রির নামে প্রতারণা করে টাকা নিয়েছে। সোহেল চৌধুরীর মামলার আইনজীবী সিলেট জজ কোর্টের আইনজীবী কাজী কাবুল হাসান মানবজমিনকে জানিয়েছেন- আদালতে প্রতারণার মামলা দায়েরের পাশাপাশি আমরা চুক্তিনামাসহ যাবতীয় ডকুমেন্ট প্রদর্শন করেছি। এ কারণে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার পরবর্তী তারিখ ৫ই নভেম্বর। মামলার আসামি ঢাকার বনানীর চেয়ারম্যান গলির বর্তমান বাসিন্দা রফিকুল আলম মানবজমিনকে জানিয়েছেন- সোহেল চৌধুরীর সঙ্গে আমরা অতীতেও কোনো প্রতারণা করিনি, এখনো করছি না। তিনি যে মামলা দায়ের করেছেন সেটি আইনি ভাবে মোকাবিলা করা হবে। প্রতারণার শিকার হওয়া ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন- বিনিয়োগকৃত টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাদের নানা ভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে। এতে করে তারা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
খবর পেতে সিলেটের আলাপ লাইক পেইজে ( LIKE ) দিতে ক্লিক করুন
সিলেট আলাপ/ সাকিব
