
নিউজ ডেস্ক : প্রতিরাতে চলছে অবৈধ পাহাড় কাটা। স্থানীয় প্রভাবশালী অসাধু শ্রমীক নেতাদের সহযোগিতায় ট্রাক শ্রমিকরা প্রতিরাতে পাহাড় কাটতে দেখা যায়। বিভিন্ন সময় উপজেলার ভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করলেও কিছু দিন পর পর তা আবার চরম আকার ধারন করে। রাত ৮টার পর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত চলে লাগাতার কর্মসূচি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে যেখানে সরকারিভাবে পাহাড় কাটা নিষেধ সেখানে প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রতিনিয়ত এ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে কিছু অসাধু ট্রাক শ্রমীকরা।
আইনে পাহাড় কর্তন ও মোচনের জন্য কঠোর এই নির্দেশনা থাকলেও গোলাপগঞ্জ উপজেলায় এলাকায় এটি মানা হচ্ছে না। উপজেলার আমুড়া ইউনিয়নের ধারাবহর এলাকার উপজেলা স্টেডিয়ামের আশপাশ এলাকা গুড়লেই দেখা যায় তাদের কর্মযজ্ঞ চোখে পড়ার মত। এই গ্রামের সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের পাশের ব্যারিস্টার তাজ সহ প্রবাসীদের টিলায় রাতের বেলা বিভিন্ন ধরনের যান দিয়ে ধারাবাহিকভাবে মাটি টানা চোখে পড়ার মত। রাস্তার পাশের ই অবৈধ লাল মাটির চিহ্ন চোখে পড়ার মত। পাহাড় কাটা আবার সেই মাটি দিয়ে স্থানীয় ভূমি ভরাট চলছে সবার চোখের সামনে।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-২০১০ অনুযায়ী, পাহাড় কাটা আমলযোগ্য অপরাধ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ব অনুমতি ছাড়া কোনও সরকারি, আধা-সরকারি, সায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান অথবা ব্যক্তি পাহাড় কাটতে বা নিশ্চিহ্ন করতে পারবে না। যদি কেউ এটি অমান্য করে, তবে তাকে অথবা ওই প্রতিষ্ঠানকে দুই বছর কারাদণ্ড অথবা ২ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। ফের একই অপরাধ করলে, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ১০ বছর কারাদণ্ড অথবা ১০ লাখ জরিমানা গুণতে হবে।
অন্যদিকে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-১৯৯৬ তে বলা হয়েছে, পাহাড় কাটা অথবা মোচনের জন্য পরিবেশ ছাড়পত্র অবশ্যই নিতে হবে। ২০০২ সালের ৯ মার্চ পরিবেশ অধিদফতর এই সম্পর্কিত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। যেখানে বলা হয়েছে পাহাড় কর্তন ও মোচনের ক্ষেত্রে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা -১৯৫২ এবং ১৯৯৬ অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।
এ ব্যাপারে ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের তহসিলদার অসিদ কুমার পালকে ফোন করলে তিনি বলেন, আমারা রেগুলার পরিবেশে রিপোর্ট দিয়া যাইরাম। ব্যারিস্টার তাঁজের টিলায় রাতের আধাঁরে টিলা কাটার প্রশ্নে তিনি বলেন আমি স্টাফ পাঠাইছি এসিলেন্ড স্যার কইছন আমারে। রাতের বেলা টিলা কাটা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাতে বেলা অভিযানে যাওয়া সম্ভব ওয়না, রাতে টিলা কাটলে আমরার কিচ্ছু করার নাই। যে টিলা কাটে পরিবেশের আইন অনুযায়ী যতটুকু ওইবো শাস্তি অতটুকু ওইবো।
এ ব্যাপারে ভূমি অফিসার অভিজিত চৌধুরীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমরা যে কয়টা অভিযোগ পেয়েছি পরিবেশ অধিদপ্তরে মামলা করার জন্য পাঠিয়ে দিয়েছে। যদি রাতের বেলা খবর পাই, তো রাতের বেলা অভিযান করা যায় না পরের দিন সকালে সরাসরি তহসিলদাল অথবা ক্ষেত্র বিশেষ আমি নিজে গিয়ে ভূমি মালিকের বিরুদ্ধে অথবা অভিযুক্ত ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরে প্রতিবেদন পাঠাই।