
সিলেটের আলাপ ডেস্ক :গোলাপগঞ্জের ফুলবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কর্তৃক সেবাপ্রার্থীকে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ধামাচাপা দিতে নানা অপতৎপরতা চলছে। চেয়ারম্যান তার নিজের লোকদের দিয়ে নির্যাতিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্নের চেষ্টা করছেন বলে পাল্টা অভিযোগ করেছেন নির্যাতিত কামরুজ্জামান মাসুদ। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। গতকাল সিলেটে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে ফুলবাড়ি ইউনিয়নের কিসমত মাইজভাগ গ্রামের মৃত আব্দুর রব জুনু মিয়ার ছেলে কামরুজ্জামান মাসুদ বলেন, ১৬ই জুলাই আমার দোকানের ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে গেলে ইউনিয়নের সচিব নজরুল ইসলাম সরকার নির্ধারিত ৪০০ টাকার পরিবর্তে ৬৫০ টাকা ফি দাবি করেন। অতিরিক্ত টাকা দাবির কারণ জানতে চাইলে নজরুল ও কম্পিউটার অপারেটর সাইফুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে আমার কথা কাটাকাটি হয়। তারা চেয়ারম্যান আব্দুল হানিফ খানকে মোবাইলে কল দিলে তিনি এসে আমাকে মারধর শুরু করেন এবং বন্দি করে ৩ জন মিলে আমার প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে শারীরিক নির্যাতন করেছেন।
একপর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হলে আমার স্বজনরা এসে চেয়ারম্যানের কবল থেকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরদিন কিছুটা সুস্থ হলে আমি সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২নং আমলি আদালতে মামলা দায়ের করি (নং-২৭৩/২০২৩)। আমার দরখাস্তকে এজাহার হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন আদালত। তারা দ্রুত এফআইআর রুজু করেন।
শারীরিক নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হলে গণমাধ্যমে এ ঘটনা উঠে আসে এবং হানিফ চেয়ারম্যান, নজরুল এবং সাইফুলের কুকর্মের বিরুদ্ধে ইউনিয়নবাসী ফুঁসে ওঠেন। গত ২৪শে জুলাই তারা হেতিমগঞ্জে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে হানিফ চেয়ারম্যান তার সিন্ডিকেট নিয়ে উঠেপড়ে লাগেন।
তিনি ইউনিয়ন পরিষদ সচিব সমিতি গোলাপগঞ্জ শাখার নেতৃবৃন্দকে ব্যবহার করেন। তাদের দিয়ে আমার বিরুদ্ধে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। স্মারকলিপিতে আমার বিরুদ্ধে সচিব নজরুলকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়েছে, যার কোনো ভিত্তি নেই। তেমন কিছু আমি করলে তারাতো আমাকে পুলিশে দিতে পারতেন। শারীরিক নির্যাতন ও লাঞ্ছনার কয়েকদিন পর কেন স্মারকলিপি দেবেন? এতেই প্রমাণ হয়, হানিফ চেয়ারম্যানকে রক্ষায় তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন।
সিলেট আলাপ/ প্রমি