
সিলেটের আলাপ ডেস্ক :সিলেটের বিশ্বনাথে এক হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান বদরুল আলম খাঁনকে দরিদ্রতায়ও দমিয়ে রাখতে পারেনি।
সে উপজেলার খাজাঞ্চি ইউনিয়নের তেলীকোনা গ্রামের মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে।
এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে দারিদ্রতাকে যেনো সে জয় করেছে। বদরুল আলম খান এখন গ্রামবাসীসহ এলাকার সকলের প্রিয় পাত্র।
জন্মের পর থেকেই দারিদ্রতা যেনো তার পিছু ছাড়েনি। প্রায় ৫বছর বয়সে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তার জন্মদাতা পিতা। এক সময় তার বাবা ছিলেন একজন সৌদিআরব প্রবাসী। তখন অনেকটা সুখেই চলছিল তাদের সংসার।
কিন্তু তার বাবা দেশে ফিরে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে এক এক করে দুটি পা’ই কাটতে হয়েছেছিল। অবশেষে ৪ মেয়ে ও ২ছেলে রেখে এই রোগে তিনি মারা যান।
তার মধ্যে দরিদ্রকে জয় করা বদরুল আলম সবার ছোট। আর তার ভাইয়ে বয়স তখন ১৪ বছর। বাবা মারা যাওয়ার পর ৬ সন্তানের পরিবারের হাল ধরেন হতভাগা মা। আর ভাই কাজ করেন অন্যের ঘরে। তাদের রোজগারের আয়েই চলে সংসার।
বদরুল আলমের বয়স ৬ বছর হলে পার্শবর্তি রাজাগঞ্জ বাজারে বেবী কেয়ার নামে একটি প্রাইভেট স্কুলে নার্সারীতে ভর্তি করা হয়। সেখানে ওই স্কুলের পরিচালক বা শিক্ষকরা বিনা বেতনে তার পড়া লেখার দায়িত্ব নেন। ওই স্কুলের পরিচালক ও শিক্ষকদের সর্বিক সহযোগীতায় সে নার্সারী থেকে এসএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত বেতন ছাড়াই পড়া-লেখা করে। আর এই স্কুল থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে চমক সৃষ্টি করে।
তার সাফল্যের জন্য বেবী কেয়ার স্কুলের পরিচালক, শিক্ষক বৃন্দ, আত্মীয় স্বজন ও এলাকার সবাই আনন্দিত। তবে এই সাফল্যে অনেকেই তার পড়া লেখার দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসছেন। ইতো মধ্যে তার কলেজে ভর্তি ফি’সহ অন্যান্য আনুষাঙ্গিক খরচ বহন করবেন বলে জানিয়েছেন বিশ্বনাথ প্রবাসী অ্যাডুকেশন ট্রাষ্টের সাধারণ সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন।
এছাড়াও তিনি ভবিষ্যতে আরও সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছেন।
সিলেট আলাপ/ প্রমি