
ওয়েছ খছরু :মাঠ ফাঁকা। প্রতিদ্বন্দ্বী আছেন চার প্রার্থী। সেটা কেবল কাগজে-কলমেই। তাদের হাঁকডাক নেই। ব্যানার পোস্টারও দেখা যাচ্ছে না। কোনো মাইকিং নেই। মাঠে আছেন কিনা- আন্দাজ করা কঠিন। একাই মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন সিলেট-১ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। সকাল থেকে রাত অবধি ছুটে চলেছেন তিনি। প্রচারণায় মার্কা কেবল একটা- নৌকা।
রেজাল্ট তো পরিষ্কার। তার ধারে-কাছেও কোনো প্রার্থী নেই। তাহলে কেন মন্ত্রীর এই ছুটে চলা।
এ নিয়ে এন্তার আলোচনা সিলেটজুড়ে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও গা-ঝাড়া দিচ্ছেন না। মাঠে তো প্রতিপক্ষ নেই। কার সঙ্গে খেলবেন। কেউ কেউ নামছেন। আবার অনেকেই নামছেন না। আয়েশে আছেন তারা। বরং যেসব আসনে নৌকার প্রার্থীরা চ্যালেঞ্জের মুখে তারা সেখানেই ছুটছেন। ভোট প্রচারণায় নেমে এমন ঘটনা নিজেও টের পেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন- প্রার্থী হলে ভোটারের কাছাকাছি যেতে হয়। একই সঙ্গে আমরা ভোটারকে কেন্দ্রে আনার জন্য সবার কাছে যাবো।
এই চ্যালেঞ্জের জন্য আমরা ভোটারের কাছি যাচ্ছি। তিনি বলেন- বড় লোকদের অনেকেই ভোটকেন্দ্রে যান না। যারা যান তারা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। তারা প্রচারণায় সাড়া দিচ্ছেন। ভোটকেন্দ্রে যাবেন, তারা ভোটও দেবেন। ভোটের দিন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ থাকবে বলে জানান তিনি। সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ড. মোমেনের সঙ্গে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল সিলেট নগর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক শিল্পপতি নজরুল ইসলাম বাবুলকে। তবে তিনি প্রার্থী হননি শেষ পর্যন্ত। দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের তিন বারের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে তিনি মাঠ থেকে সরে যান।
এখন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সঙ্গে মাঠে আছেন আরও চার প্রার্থী। এরা হলেন- বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী (মুক্তিজোট) ?আব্দুল বাছিত (ছড়ি), ইসলামী ঐক্যজোটের ফয়জুল হক (মিনার), বাংলাদেশ কংগ্রেসের মোহাম্মদ সোহেল আহমদ চৌধুরী (ডাব), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ইউসুফ আহমদ (আম)। এই প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে অপরিচিত। রাজনৈতিক মাঠেও তাদের বিচরণ চোখে পড়ে না। কেউ তাদের চিনেন না। কোনো প্রচারণাও চোখে পড়ছে না। তাদের কর্মী-সমর্থক নেই। ফলে তাদের নিয়ে ভোটের মাঠে তেমন আগ্রহ নেই। তবে বাংলাদেশ কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী সোহেল আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমে তারা বসে নেই। প্রতিদিনই ভোটারের কাছে ছুটে যাচ্ছেন। ভোটারের সাড়াও পাচ্ছেন। নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলার জন্য প্রচারণায় কোনো কমতি রাখছেন না।
এদিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ড. একে আব্দুল মোমেন এবারের ভোটের মাঠে নতুন প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাঠে নামছেন। ইতিমধ্যে গত ২০শে ডিসেম্বর সিলেটের আলীয়া মাদ্রাসা ময়দানে প্রথম নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট সম্পর্কিত এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা জানিয়েও গেছেন। এর মধ্যে দুটি উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি নিয়ে আলোচনা বেশি। একটি হচ্ছে; সুরমা নদীর উপর আরও একটি ব্রিজ নির্মাণ। অপরটি হচ্ছে; সিলেট নগরে মেট্রোরেল চালু। এ ছাড়া গ্রামকে শহরে পরিণত করার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।
প্রতিদিনই নির্বাচনী প্রচারণায় ড. মোমেন এসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন। এর বাইরে তেমন কোনো চমক নেই। সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমন্বয়ক নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ফয়জুল আনোয়ার আলাউর মানবজমিনকে জানিয়েছেন, সিলেটের মর্যাদাপূর্ণ এ আসনে নৌকার প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী আছে কি নেই সেটি নিয়ে আমরা ভাবছি না। আমাদের চিন্তায় ভোটার। ভোটারকে কেন্দ্রে নিয়ে আসতে আমাদের প্রচারণায় কোনো ঘাটতি থাকবে না। প্রার্থী তো প্রচারণায় যাচ্ছেন, এর বাইরে আমরাও প্রচারণায় ঘরে ঘরে যাচ্ছি। কেন্দ্রে ভোটার নিয়ে আসতে যা করা প্রয়োজন সবই আমরা করছি। তিনি বলেন- দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অনেকেই এখনো মাঠে নামেননি। তাদের মাঠে নামাতে আমরা কাজ করছি। দলের নেতারা এবং প্রার্থী মিলে আমরা সবার সঙ্গে মতবিনিময় করছি। দিন যত যাবে ভোটের মাঠে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও তত বাড়বে।
এদিকে ড. একে আব্দুল মোমেনের পাশাপাশি তার স্ত্রী বেগম সেলিনা মোমেনও প্রান্তিক পর্যায়ের ভোটারের কাছে যাচ্ছেন। গতকাল তিনি চা বাগান এলাকায় গণসংযোগ চালিয়েছেন। এ সময় তিনি জানিয়েছেন- প্রান্তিক জনগোষ্ঠীদের মধ্যে ভোটের আগ্রহ রয়েছে। সবাই দলবেঁধে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। সিলেটের সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি গতকাল সন্ধ্যায় মানবজমিনকে জানিয়েছেন, সিলেট-১ আসনে ক’জন প্রার্থী। কারা কারা প্রার্থী হয়েছে আমি নিজেও জানি না। অনেকের কাছে তথ্যটি জানার চেষ্টা করলাম। কেউ বলতেও পারেন না। তিনি বলেন- এ নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে কোনো আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস নেই। মানুষ ভোটকেন্দ্রে যাবে না। প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকলে কেন্দ্রে গিয়ে কী লাভ- সেটি মানুষ বুঝে গেছে বলে জানান তিনি।
খবর পেতে সিলেটের আলাপ লাইক পেইজে ( LIKE ) দিতে ক্লিক করুন
সিলেট আলাপ// আবির
