
স্টাফ রিপোর্টারঃ সিলেটের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক ছাত্রলীগ কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করে ( ইন্না-লিল্লাহ ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার ( ১৭ জুলাই) বেলা সাড়ে বারোটার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের পল্লব ও পাভেল গ্রুপের নেতাকর্মীদের সাথে ছাত্রদলের ফাহাদ গ্রুপ সহ অন্যান্যদের সংঘর্ষে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায় সপ্তাহ খানিক পূর্বে বিয়ানীবাজার সরকারী কলেজের ২য় বর্ষের একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করিয়া ছাত্রদলের ফাহাদ সহ কয়েকজনের সাথে ছাত্রলীগের পল্লব ও পাভেল গ্রুপের অপূর্ব দেবনাথ সহ তাহার সহপাঠিদের বাকতিন্ডা হয়। এরই জেরে গত ১৭ জুলাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আধিপত্য বিস্তারের লক্ষে স্বসস্ত্র মহড়া দিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথে এলোপাতাড়ি কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে যাওয়ার সময় কলেজের নিচ তলায় ইংরেজী বিভাগের সম্মুখে দাঁড়িয়ে থাকা ছাত্রলীগের একজন কর্মীর বুকে গুলির আঘাত লেগে মাটিতে লুটিয়ে পড়িলে ছাত্রলীগের কর্মীরা দ্রুত কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করিলে ক্যাম্পাসের থাকা শিক্ষক-শিক্ষার্থী দ্রুত তাকে হাসপাতালে প্রেরণ করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই গুলিবিদ্ধ লিটু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। সাথে সাথে এ খবর বিয়ানীবাজারে ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বিএনপি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল শুরু করে। বিষয়টি নিয়ে পুরো বিয়ানীবাজার এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিয়ানীবাজার থানার কসবা পন্ডিতপাড়া গ্রামের কাজি মোঃ খলিল উদ্দিনের ছেলে মোঃ খালেদ আহমদ লিটু (ছাত্রলীগ পল্লব, পাভেল গ্রুপের) মোবাইল এক্সেসরিজের ব্যবসায়ী। ছাত্রলীগের কলেজে আধিপত্য বিস্তারে মহড়ায় ক্যাম্পাসে উপস্থিত হলে নিজেদের কর্মীর এলোপাতাড়ী গুলিতে গুলিবিদ্ধ হইয়া মৃত্যুবরণ করেন।
এদিকে বিয়ানীবাজার উপজেলা ও কলেজ ছাত্রলীগ দাবি করছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের গুলিতে লিটু গুলিবিদ্ধ হইয়া মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
এ ব্যাপারে লিটুর পিতা মোঃ খলিল উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অসুস্থবোধ করছেন বলে কথা বলতে না চাওয়ায় লিটু চাচা ইছরাক আলী জানান, তাহার ভাতিজা লিটু হত্যার বিচার চান এবং থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চন্দন কুমার চক্রবর্তীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কলেজ ক্যাম্পাস সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ছাত্রদলের কামরান, ফাহাদ, এমদাদুর রহমান নামের তিনজন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ক্যাম্পাস সহ সর্বত্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মামলা হলে তদন্তে হত্যা সংক্রান্ত বিষয় উদঘাটিত হবে বলে তিনি জানান।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা জানান, যে ভাবেই লিটুর মৃত্যু হোক সন্ত্রাসীরা পার পাবে না। আজকেই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে এবং যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।