
সিলেট আলাপ ডেস্ক :সিলেট নগরের টিবি গেটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হলো ছাত্রলীগকর্মী আরিফ আহমেদকে। নিজ দলের প্রতিপক্ষ সিটি কাউন্সিলর ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিরণ মাহমুদ গ্রুপের কর্মীরা হামলা চালিয়ে এ ঘটনা ঘটায়। নিহত ছাত্রলীগকর্মী আরিফ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম গ্রুপের কর্মী। নাজমুল দাবি করেছেন, ‘মারধরের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করায় আরিফকে খুন করা হয়েছে।’ সিলেটের বালুচর, সন্ত্রাসের নতুন জনপদ। এখন প্রকাশ্য অস্ত্রবাজি চলে এখানে। বালুচরের মানুষ সন্ত্রাসীদের ভয়ে অতিষ্ঠ থাকেন।
গত একমাস ধরে নানা ঘটনায় বালুচরে উত্তেজনা চলছিল। কাউন্সিলর গ্রুপের ছাত্রলীগ কর্মীরা কখনো টিলাগড় গ্রুপ ছাত্রলীগ, কখনো স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াচ্ছিলো। এ নিয়ে থানায় মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আরিফ আহমেদ টিবি গেট এলাকার ফটিক মিয়ার ছেলে। তার অবস্থান বালুচরে হলেও ছাত্রলীগের টিলাগড় গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল।
এ কারণে তার সঙ্গে বিরোধ ছিল এলাকার কাউন্সিলর গ্রুপের ছাত্রলীগের কর্মীদের। গত সপ্তাহে আরিফের ওপর হামলা করে কাউন্সিলর গ্রুপের কর্মীরা। এ সময় তাকে মারধর করা হয়। নিহত আরিফের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, পূর্বের হামলার সময় ছাত্রলীগের কর্মীরা বালুচর ও টিবি গেট এলাকায় মহড়াও দেয়। এতে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছিল। আর এই অভিযোগ দেয়ার পরপরই ছাত্রলীগের কাউন্সিলর নিপু গ্রুপের কর্মীরা আরিফের ওপর আরও ক্ষুব্ধ হয়।
এ ঘটনার জের ধরে সোমবার গভীর রাতে বাসার সামনে ওয়াকওয়েতে তার ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের কাউন্সিলর গ্রুপের কর্মীরা। পরে আরিফকে গুরুতর আহত অবস্থায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে তিনি মারা যান। নিহতের স্বজনরা জানান, গত সপ্তাহে আরিফের ওপর স্থানীয় কাউন্সিলর হিরন মাহমুদ নিপুর লোকজন হামলা করে। আরিফ আহত হয়ে মেডিকেলে চিকিৎসাধীন ছিল। রোববার সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরেন।
সোমবার রাতে হামলার ঘটনায় শাহপরান থানায় একটি মামলা করে বাসায় ফেরেন। পরে রাতে আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে আরিফ বাসার পাশে ওয়াকওয়েতে হাঁটতে যান। তখনই কাউন্সিলরের অনুসারী ছাত্রলীগকর্মীরা তাকে কুপিয়ে আহত করে। সিলেট জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি নাজমুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিহত আরিফ ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী। চার-পাঁচদিন আগে আরিফের ওপর হামলা করেছিল এলাকার কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী। গতকাল বিকালে আরিফ হামলার ঘটনায় নগরের শাহপরান থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।
সেখান থেকে ফেরার সময় তার ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনার পর থেকে মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে কাউন্সিলর হিরন মাহমুদ নিপুর। তার গ্রুপের কর্মীরা জানিয়েছেন, ঘটনা জানেন না নিপু। তিনি নিজেই ঘটনাটির মীমাংসা করে দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। এদিকে এ ঘটনায় গতকাল সকালে সিলেটের এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)’র উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ জানিয়েছেন, হামলায় জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযানে রয়েছে।
ঘটনায় আটকৃকতরা হচ্ছে- বাচ্চু মিয়ার পুত্র রনি ও কামাল মিয়ার পুত্র মামুন মজুমদার। তারা দুজনেই সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিরন মাহমুদ নিপু গ্রুপের কর্মী। তাদের বাড়ি বালুচর এলাকায়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর থেকে এলাকায় কাউন্সিলর গ্রুপের কর্মীদের দাপট বেড়েছে। তারা প্রকাশ্যে এলাকায় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়। এ ব্যাপারে বার বার শাহপরান থানা পুলিশে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি।
খবর পেতে সিলেটের আলাপ লাইক পেইজে ( LIKE ) দিতে ক্লিক করুন
সিলেট আলাপ// জ্যোতি
