
সিলেট আলাপ ডেস্ক :পর পর দু’বার নৌকা হাতছাড়া সিলেট-২ আসনে। শরিক দল জাতীয় পার্টি এ আসনে দু’বারই মনোনয়ন পেয়েছিল। এ নিয়ে হতাশ ছিলেন নৌকার সমর্থকরা। এবার আগে থেকেই মাঠে সরব নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। সঙ্গে এ আসনের কর্মী ও সমর্থকরা। এ আসনে নৌকার প্রার্থী চায় আওয়ামী লীগ। এ কারণে গত এক মাস ধরে নানা দাবি উঠেছে এ আসনে। সিলেটের জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সভা করে এ আসনের বাসিন্দারা নৌকার প্রার্থী দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধারাও সভা করে এই দাবি উত্থাপন করেছেন। আসনের আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন, সিলেট-২ আসনে নৌকা ভুলতে বসেছেন দলীয় কর্মী-সমর্থকরা।
২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইয়াহহিয়া চৌধুরী এহিয়াকে দেয়া হয় মহাজোটের মনোনয়ন।
এর আগে ২০০৮ সালে এ আসনে প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী। এরপর পরপর দু’বার শরিকদের কাছে এ আসন ছাড় দিতে হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভের অন্ত নেই বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরে। এবারো দুশ্চিন্তা বাড়ছে এ আসন নিয়ে। এ আসনের এমপি প্রার্থী শফিকুর রহমান চৌধুরী গতকাল বিকালে মানবজমিনকে জানিয়েছেন, দলীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র কিনে তিনি জমাও দিয়েছেন। এখন সবকিছু নির্ভর করছে দলীয় সভানেত্রী ও মনোনয়ন বোর্ডের মর্জির উপর।
এ আসন থেকে নৌকার মনোনয়ন চাচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক জগলু চৌধুরী ও ডা. অরূপ রতন। শুধু নৌকাই নয়, ধানের শীষের হয়ে কোনো প্রার্থীও ২০১৪ ও ২০১৮ সালে এ আসনে প্রার্থী হননি। ফলে বিএনপি’র কর্মী-সমর্থকরাও হতাশ। এখনো বিএনপি নির্বাচনে যাচ্ছে না। বিএনপি ছাড়া নির্বাচন হলে ধানের শীষ থেকেও কেউ প্রার্থী হবেন না। এদিকে- সিলেট-২ আসনে এবার সাবেক এমপি এহিয়া ছাড়াও জাতীয় পার্টি থেকে প্রার্থী হতে চাইছেন সাবেক এমপি মকসুদ ইবনে আজিজ লামা, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী, রওশন বলয় সিলেট জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান চৌধুরী ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী ফখরুল ইসলাম সোহেল।
সিলেট-৩ আসনের বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান হাবিব। তিনি রয়েছেন চ্যালেঞ্জের মুখে। এ আসনটি চায় জাতীয় পার্টি। তাদের প্রার্থী দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিক। ১৯৯১ সাল থেকে তিনি নির্বাচন করে এলেও এখনো জয়ের দেখা পাননি। তার প্রতি সহানুভূতির অন্ত নেই দলের সিনিয়র নেতাদের। এ কারণে সিলেট-৩ আসনটি এবার জোরেশোরেই চাইছে জাতীয় পার্টি। সিলেট-৪ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ। তার আসনও জাতীয় পার্টি প্রার্থী চাইছে। দলের রওশন এরশাদ গ্রুপের নেতা ও সিলেটের সদস্য সচিব মুজিবুর রহমান ডালিম এ আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন চাইছেন।
করোনা, বন্যার সময় থেকেই তিনি মনোনয়নের দাবি নিয়ে এলাকায় সরব রয়েছেন। সিলেট-৫ আসনের বর্তমান আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি হাফিজ আহমদ মজুমদার প্রার্থী হচ্ছেন না। তিনি ইতিমধ্যে গণমাধ্যমের কাছে বিষয়টি জানিয়েছেন। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইছেন দলের একাধিক নেতা। আসন ভাগাভাগিতে জাতীয় পার্টি এ আসনে প্রার্থী চায়। সিলেট জেলা ছাত্র সমাজের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান লন্ডন প্রবাসী নেতা জাকির হোসেন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুদ্দিন খালেদ ও প্রবীণ নেতা আলহাজ সাব্বির আহমদ রয়েছে প্রার্থী তালিকায়। এ ছাড়া- জাতীয় পার্টি রওশন বলয়ের নেতা মুজিবুর রহমান ডালিমের নামও রয়েছে আলোচনায়।
সিলেট-৬ আসন নিয়ে এবার কৌতুহল বেশি। এ আসনে তৃণমূল বিএনপি থেকে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন চেয়ারপারসন শমসের মবিন চৌধুরী। তাকে নিয়ে আসনের সবখানেই আলোচনা বেশি। যদি শমসের মবিন চৌধুরী প্রার্থী হন তাহলে আওয়ামী লীগের ভূমিকা কী হতে পারে?- সে আলোচনা দিন দিন ডালপালা মেলছে। এ আসনে বর্তমান এমপি দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি এবারো দলের কাছে মনোনয়ন চাইছেন। এলাকায় তার কর্মী-সমর্থকরাও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ ছাড়া কানাডা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সরওয়ার হোসেন, লন্ডন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আফসার খান সাদেক, গোলাপগঞ্জের উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুর কাদির শাফি চৌধুরী এলিমও দলীয় ফোরামে মনোনয়ন চাইছেন। গতকাল মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সরওয়ার হোসেন। এ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন চাইছেন সিলেট-৫ আসনের সাবেক এমপি সেলিম উদ্দিন, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য এটিইউ তাজ রহমান, যুক্তরাজ্য জাতীয় পার্টির সভাপতি এডভোকেট এবাদ হোসেন ও সমাজসেবী শাহাবুদ্দিন আহমদ।
খবর পেতে সিলেটের আলাপ লাইক পেইজে ( LIKE ) দিতে ক্লিক করুন
সিলেট আলাপ// প্রাপ্তি
