
সিলেট আলাপ ডেস্ক :বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর মহাসমাবেশের দিন শনিবার ঢাকায় হার্ডলাইনে থাকবে আওয়ামী লীগ। বিরোধীদের কর্মসূচি রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার পাশাপাশি নগরজুড়ে সতর্ক পাহারা বসানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে নেতাকর্মীদের। এ ছাড়া শান্তি উন্নয়ন সমাবেশে ব্যাপক লোক সমাগমের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন নেতারা সমাবেশে আসা নেতাকর্মীদের লাঠি নিয়ে আসতে কোনো কোনো নেতা প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন। দলীয় সূত্রের দাবি বিরোধীদের মোকাবিলায় পতাকা, ফেস্টুন বা দলীয় পতাকা বেঁধে লাঠি হাতে সমাবেশে যোগ দিতে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তুতি সভা থেকে নির্দেশনা দিয়েছেন কয়েকজন নেতা। এ ছাড়া পাড়া-মহল্লায় নেতাকর্মীদের সতর্ক পাহারা দিতে বলা হয়েছে।
শনিবার শান্তি সমাবেশ সফল করার পাশাপাশি ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় ও বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিরাপত্তা ঘিরে বিশেষ কৌশল নেয়া হয়েছে। দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীরা ওই দুই জায়গা ঘিরে সকাল থেকে মহড়া দেবেন। পাশাপাশি রাজধানীর প্রতিটি ওয়ার্ডের মোড়ে মোড়ে অবস্থান নেবেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
দলটির কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতা বলেন, ২৮শে অক্টোবর ঢাকার প্রবেশ পথসহ যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আছে সেগুলোতে আমাদের নেতাকর্মীরা পাহারা দেবে। যাতে কেউ কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি করতে না পারে। পাশাপাশি ঢাকার পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, রূপগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ডাকা শান্তি সমাবেশস্থলে জড়ো হবেন।
ওই সমাবেশ ঘিরে অন্তত ১২ লাখ লোকের উপস্থিতির টার্গেট করেছে আওয়ামী লীগ। কোন জেলা থেকে কোন কোন নেতা কতো লোক নিয়ে আসবেন সে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। আজ ও আগামীকাল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতাকর্মীরা নৌকার মিছিল নিয়ে রাজপথে থাকবে। সরকার পতনের আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিএনপি রাজপথে বসে যেতে পারে অথবা টানা কয়েক দিন রাজধানীতে সরকারবিরোধী নানা কর্মসূচি পালন করতে পারে-এমন সম্ভাবনাকে সামনে রেখে এসব কৌশল নিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলীয় নেতারা এরইমধ্যে মোবাইলে পাঠানো এসএমএস’র মাধ্যমে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন।
এসব প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম বলেন, আমরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখবো না। আমরা বীরের ন্যায় শান্তি, সমৃদ্ধি, গণতন্ত্র, সাংবিধানিক শাসন রক্ষা করার জন্য তৎপর থাকবো। ওইদিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করতে যারাই আসবে তাদেরকে দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে। আমাদের নেতাকর্মীরা সতর্ক পাহারায় থাকবে। এখন থেকেই ঢাকার অলিতে, গলিতে, মহল্লায়-মহল্লায় মিছিল হবে। সন্ত্রাসী কার্যক্রম করলে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না।
ওদিকে বিরোধীদের কর্মসূচি ঘিরে মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যৌথ সভায় দিকনির্দেশনা দেন কেন্দ্রীয় নেতারা। ওই সভা শেষে সিনিয়র নেতারা আলাদা বৈঠক করেন। সেখানে নেতাকর্মীদের লাঠি হাতে সমাবেশে আসার বিষয়ে আলোচনা হয় বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
ওদিকে গতকাল তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তুতি সভায়ও এমন আলোচনা হয়। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
খবর পেতে সিলেটের আলাপ লাইক পেইজে ( LIKE ) দিতে ক্লিক করুন
সিলেট আলাপ/ নজরুল
