
সিলেট আলাপ ডেস্ক :বিএনপির সাবেক দুই নেতা শমসের মবিন চৌধুরী ও তৈমুর আলম খন্দকারকে চেয়ারপারসন ও মহাসচিব করে আংশিক জাতীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করেছে নতুন রাজনৈতিক দল তৃণমূল বিএনপি। মঙ্গলবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে দলটির প্রথম জাতীয় কাউন্সিলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়াও তৃণমূল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা আরেক সাবেক বিএনপি নেতা নাজমুল হুদার মেয়ে অন্তরা সেলিমা হুদাকে দলটির এক্সিকিউটিভ চেয়ারপারসন করা হয়েছে।
তৃণমূল বিএনপিতে বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা তৈমুর আলম যোগ দিচ্ছেন বলে বেশ কয়েকদিন ধরেই কানাঘুষা চলছিল। কাউন্সিলের পর সেই কানাঘুষা শেষ পর্যন্ত সত্যি হলো।
আংশিক জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে মোট ২৭টি পদে নেতা নির্বাচন করেছে নতুন এই রাজনৈতিক দল। এরমধ্যে আছেন ৬ জন ভাইস চেয়ারপারসন, একজন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, ৫ জন যুগ্ম মহাসচিব, একজন কোষাধ্যক্ষ, ২ জন সাংগঠনিক সম্পাদক, একজন সহ সাংগঠনিক সম্পাদক, ২ জন দপ্তর সম্পাদক আর একজন করে মুক্তিযুদ্ধ, যুব, আইন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, প্রচার প্রকাশনা এবং স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক আছেন।
তৃণমূল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা বিএনপির সাবেক নেতা নাজমুল হুদা। তিনি ১৯৯১ ও ২০০১ সালে দুই দফায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তবে ২০১২ সালে তিনি বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে বিএনএফ নামে নতুন একটি দল গঠন করেন। সেখান থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর, ২০১৫ সালে গঠন করেন তৃণমূল বিএনপি। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত এই দলের প্রতীক সোনালি আঁশ। দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ টি সংসদীয় আসনের সবগুলোতেই প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
সম্মেলনে দলটির চেয়ারপরসন শমসের মোবিন চৌধুরী জানান, তৃণমূল শব্দটি পছন্দ হওয়ায় তিনি দলটির সাথে যুক্ত হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘তৃণমূল বিএনপি কিংস পার্টি নয়, এটা পিপলস পার্টি। তৃণমূল বিএনপি কোন সহিংসতা মূলক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।’
শমসের মোবিন বলেন, ‘যারা প্রকৃত গণতন্ত্র দেখতে চায়, যারা আইনের শাসন দেখতে চায় তারাই তৃণমূল বিএনপি করবে। বিএনপিতে নাজমুল হুদা ও তৈমূর আলম খন্দকার লাঞ্ছিত হয়েছেন। রাষ্ট্রকাঠামোর মেরামতে কিছু সুপারিশ করবে তৃণমূল বিএনপি। অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায় তৃণমূল বিএনপি, সে ক্ষেত্রে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে। তৃণমূল শব্দটি খুব পছন্দ তাই দলটিতে যোগ দেয়া।’
শমসের মবিন চৌধুরী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতও। অবসরের পর ২০০৮ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। এর পরের বছরই দলটির ভাইস চেয়ারম্যান মনোনিত হন।
২০১৫ সালের অক্টোবরে তিনি হঠাৎ করেই বিএনপির রাজনীতি থেকে সরে আসেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে যোগ দেন বিকল্প ধারা বাংলাদেশের সাথে। তিনি এখনও দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেব দায়িত্ব পালন করছেন।
মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়ে তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, ‘ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার সাথে জেল খেটেছি, তাঁর সাথে ঐকবদ্ধ হয়ে আছি। আজকের বিরোধী দল যারা তত্ত্বাবধায়ক চান। সেই কেয়ারটেকার গভমেন্টের জনক নাজমুল হুদা। তিনি নাই। দাবি রয়ে গেছে। সকলেই কেয়ারটেকার চাই। যখন তিনি তত্ত্ব দেন, তখন সরকারি গাড়ি ত্যাগ করে নিজের গাড়িতে বাড়ি যান। তিনি বলেন, অপমানবোধ করেন নাই। তিনি বলেন, একসময় এই দাবি উঠবে।’
বিএনপির সাবেক নেতা তৈমুর বলেন, ‘দলকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সাহায্য চাই। লুটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। এমপিরা নিজের এলাকায় নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলেছেন। যানবাহন চালকরা তাদের ট্যাক্স দেয়। সরকারি দলের স্থানীয় এমপি বা প্রতিনিধি তাদের স্বজনরা অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছে। এটা ব্যবস্থা নিতে হবে। দলে দুর্নীতিবাজদের জায়গা হবে না। তৃণমূল বিএনপি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হবে না। সবার মত নিয়ে চালানো হবে দল। জোট করে সুস্থধারার রাজনীতি করতে হবে, ব্যারিস্টার হুদার দেখানো পথে।’
তৈমুর আলম খন্দকার দীর্ঘসময় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাও হন। ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটির প্রথম নির্বাচনের তিনি বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। ২০২২ সালে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়।
তৈমুর আলম বলেন, ‘আমি একটি দল থেকে এসেছি। খালেদা জিয়ার জন্য সুস্থ জীবন ও কারামুক্তি কামনা করি। বিএনপি আমাকে বহিস্কার করেছে। অপেক্ষা করেছি, শোকজ করেনি। দেড় বছর এভাবে ছিলাম। কাজ করেছি। কিছু হয়নি। হুদা সাহেবের দলে আসছি, কারণ তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, এই দলেরও তাই। বিএনপির সাথে তৃণমূল বিএনপির আদর্শগত মিল আছে।’
খবর পেতে সিলেটের আলাপ লাইক পেইজে ( LIKE ) দিতে ক্লিক করুন
সিলেট আলাপ/ সাকিব
