
গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি : ওমানপ্রবাসী ও প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ গোলাপগঞ্জের নিবেদিত সদস্য সোহেল আহমদ দেশে ছুটি কাটাতে এসে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু যেন সবাইকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
এই কঠিনতম মুহূর্তে সোহেল আহমদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে তাঁর নিজের মানুষ—প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ গোলাপগঞ্জ। সোহেল আহমদ এর মেয়ের বিবাহকে কেন্দ্র করে পরিবারকে সহযোগিতা হিসেবে নগদ ৬০ হাজার টাকা প্রদান করে সংগঠনটি মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
এই অর্থ পরিবারের হাতে তুলে দেন পরিষদের সহ-সভাপতি, সৌদি আরব প্রবাসী মুহিবুর রহমান। অর্থ হস্তান্তরের সময় এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পরিবার-পরিজন ও স্থানীয়রা সংগঠনের এই উদ্যোগকে গভীর প্রশংসায় ভরিয়ে দেন।
সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরেই প্রবাসী ও স্থানীয় মানুষদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। অসহায় মানুষের চিকিৎসা সহায়তা, বন্যা-দুর্যোগে ত্রাণ বিতরণ, কন্যার বিবাহে সাহায্য, কিংবা প্রবাসীদের সংবর্ধনা—প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ গোলাপগঞ্জের প্রতিটি পদক্ষেপেই আছে মানবতার ছাপ।
প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ গোলাপগঞ্জ-এর সহ-সভাপতি মুহিবুর রহমান গভীর আবেগে বলেন—
সোহেল ভাইকে হারানো আমাদের জন্য শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়—এটা ছিল এক পরিবারের স্তম্ভ ভেঙে পড়ার মতো। তাঁর মেয়ের বিবাহের এই সময়ে কিছুটা সহযোগিতা করতে পেরে আমরা নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করছি। আমাদের সংগঠন সবসময়ই বিপদে মানুষের পাশে থাকতে চায়—এটাই আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
সোহেল আহমদের মেয়ের কণ্ঠে অশ্রুসিক্ত কৃতজ্ঞতা
অচিরেই বাবাকে হারিয়েছি… এই শোকের মধ্যে দাঁড়িয়ে প্রবাসী কল্যাণ পরিষদের এমন সহায়তা আমাদের জন্য অনেক বড় সান্ত্বনা। তারা শুধু বাবার সহযোদ্ধা ছিলেন না—আমাদের পরিবারের আপন মানুষ। তাদের এই ভালোবাসা ও দোয়া জীবনের শেষ পর্যন্ত মনে রাখবো।
প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ গোলাপগঞ্জের এই সহযোগিতা প্রমাণ করে—দূর প্রবাসে থাকলেও মানবতার সম্পর্ক কখনো দূরে সরে যায় না।
আল্লাহ তাঁর পরিবারকে ধৈর্য দান করুন এবং প্রয়াত সোহেল আহমদকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।