
সিলেট আলাপ ডেস্ক :ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে এক দ্বিমুখী পথে এগোচ্ছে রাশিয়া। একদিকে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শান্তি আলোচনার বার্তা দিচ্ছেন, অন্যদিকে সীমান্তজুড়ে গড়ে তুলছেন ভয়াবহ হামলার প্রস্তুতি। যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে রাশিয়া বরং বাড়াচ্ছে সামরিক ঘাঁটি, মোতায়েন করছে হাজারো সেনা।
ইয়াহু নিউজের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইউক্রেনের দাবি—রাশিয়ার বড় হামলার প্রস্তুতির প্রমাণ রয়েছে তাদের হাতে। ২০২৫ সালের মে মাসে প্রতিদিন গড়ে ৫.৫ বর্গমাইল ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড দখল করেছে রুশ বাহিনী, যা আগের মাসের তুলনায় দ্বিগুণ।
ডনবাস এখন রাশিয়ার মূল লক্ষ্য। ইতোমধ্যে লুহানস্কের ৯৯% ও ডোনেৎস্কের ৭৭% নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ নজর কোস্তিয়ানতিনিভকা শহরে—একটি গুরুত্বপূর্ণ রেল ও সড়ক জংশন। এটি হারালে ইউক্রেনের রসদ সরবরাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।
এখন আর বড় ট্যাঙ্ক যুদ্ধের নিয়ামক নয়; রুশ বাহিনী ছোট ইউনিটে আঘাত হানছে, খচ্চরের পিঠে রসদ। ভয় বাড়াচ্ছে ড্রোন প্রযুক্তি—ইরানের শাহেদ থেকে অনুপ্রাণিত গেরান-২ ড্রোনের দৈনিক উৎপাদন ১০০ ছাড়িয়েছে। এফপিভি ফাইবার-অপটিক ড্রোন রেডিও ছাড়াই আঘাত হানছে, যা ইউক্রেনের সেনাদের কাছে ‘অদৃশ্য ঘাতক’ হিসেবে পরিচিত।
অর্থনৈতিক চাপেও পিছপা নয় রাশিয়া। নতুন সেনা নিয়োগে বড় বোনাস ও বেতন দিচ্ছে, যার ফলে সেনাবাহিনী ৬ লাখ ২০ হাজার ছাড়িয়েছে, যদিও এক বছরে ৪ লাখের বেশি সৈন্য হারিয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে রাশিয়াই বেশি চাপে পড়বে। কারণ, অর্থনীতির ভিত নড়বড়ে—সুদের হার ২১ শতাংশ, দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিক, জাতীয় তহবিল ফুরিয়ে আসছে।
সবমিলিয়ে, এই যুদ্ধ শুধু অস্ত্রের নয়—এটি প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও মনোবলের এক জটিল লড়াই। সামনের গ্রীষ্মেই হয়তো ঠিক হবে, কার কাঁধে চাপে যুদ্ধের প্রকৃত ভার।
খবর পেতে সিলেটের আলাপ লাইক পেইজে ( LIKE ) দিতে ক্লিক করুন
সিলেট আলাপ// আজম চৌ:
