
সিলেট আলাপ ডেস্ক :সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলার মানুষ যেমন সহজ-সরল, তেমনি ধার্মিকও। ওই এলাকায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একটি বিশাল ভোটব্যাংক রয়েছে। দলের যে কোনো প্রার্থী নির্বাচন করলে ২০/২৫ হাজার ভোট টানতে পারেন। সেই কথা মাথায় রেখেই আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৪ (জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ) আসনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী, দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও সিলেট জেলা উত্তর শাখা সভাপতি শায়খুল হাদিস মাওলানা আতাউর রহমান।
মাওলানা আতাউর এরই মধ্যে ভোটের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন জোরেশোরে। প্রতিদিনই তিনি বিভিন্ন উপজেলায় গণসংযোগ ও সভা-সমাবেশ করছেন।
মাওলানা আতাউর জানান, প্রার্থী হলে জয়ের ব্যাপারেও আশাবাদী তিনি। যদিও আতাউর রহমানের প্রার্থিতা ঘোষণায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি অনেকটা দুশ্চিন্তায় রয়েছে। এই প্রধান দুই দলের নেতারা মনে করছেন, জমিয়ত থেকে আলাদা প্রার্থী হলে বেকায়দায় পড়তে হবে তাদের।
দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, মাওলানা আতাউর রহমানের জন্ম গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দিরগাওঁ ইউনিয়নের বহর গ্রামে। তিনি একজন বিচক্ষণ আলেম, শায়খুল হাদিস, শিক্ষক ও লেখক। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সিলেট-৪ আসনে বিজয়ের স্বপ্ন দেখছেন তারা। রাজনৈতিক অঙ্গনে সুপরিচিত মুখ আতাউর রহমানের শিক্ষাজীবন শুরু হয় ১৯৭১ সালে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভাটরাই গ্রামের মক্তব ও প্রাইমারি স্কুুলে ৫ম শ্রেণি উত্তীর্ণ হন। ১৯৮৫ সলে তিনি সিলেটের শীর্ষ ইসলামী বিদ্যাপীঠ কানাইঘাট দারুল উলুম মাদ্রাসায় ভর্তি হন। সেখান থেকে দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে ১ম স্থান অর্জন করেন। তিনি জামেয়া মুশাহিদিয়া মাদ্রাসায় আল মুশাহিদ ছাত্র সংসদের জিএস নিযুক্ত হন। ১৯৯২ সাল থেকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শাখা ছাত্র জমিয়তের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৩ সাল থেকে সিলেট জেলা যুব জমিয়তের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালে জেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় জমিয়তের সহকারী মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন।
এর আগে মাওলানা আতাউর ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন। সে সময় জমিয়ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের অন্তর্ভুক্ত থাকায় তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের অনুরোধে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। তবে প্রত্যেকটি উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ, সিটি ও সংসদ নির্বাচনে তার দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিষয়টি নিয়ে শায়খুল হাদিস মাওলানা আতাউর রহমান বলেন, বৃহত্তর জৈন্তার অধিকাংশ সাধারণ মানুষ ধর্মপ্রাণ ও আলেম-ওলামা ভক্ত। ওই এলাকা থেকে আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরী (রহ.) পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। আমি তারই পথে হাঁটছি। দলমত নির্বিশেষে এ অঞ্চলের মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে সংসদে ইসলাম ও বৃহত্তর জৈন্তাবাসীর পক্ষে কথা বলার সুযোগ করে দেবে ইনশাল্লাহ।
সিলেট আলাপ/ তামান্না