সিলেট আলাপ ডেস্ক :টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে বাংলাদেশের বিপক্ষে সহজ জয় পেয়েছে আসরের অন্যতম ফেবারিট অস্ট্রেলিয়া। অ্যান্টিগার স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে ডিএলএস পদ্ধতিতে টাইগারদের ২৮ রানে হারিয়েছে অজিরা।
তবে এই ম্যাচের শুরু থেকেই একে একে সামনে আসতে থাকে বাংলাদেশের নানান দুর্বল দিক। গ্রুপ পর্বে খানিকটা ব্যাটিং ভেলকি দেখালেও সুপার এইটে হতশ্রী পারফরম্যান্স দেখিয়েছে টাইগার ব্যাটাররা। এই উইকেটে স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাট করতে পারেনি বাংলাদেশের টপ ও মিডল-অর্ডার।
পুরো ২০ ওভার ব্যাট করে মোটের ওপর ১৪০ রানের পুঁজি দাঁড় করায় লাল-সবুজ শিবির। জবাবে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ১১ দশমিক ২ ওভারেই ২ উইকেট হারিয়ে তিন অঙ্কের কোটা ছুঁয়ে ফেলে অজিরা। ২৮ রান ব্যবধানে এগিয়ে থাকা অজিরাই শেষ পয়েন্ট নিজের ঝুলিতে পুরেছে পূর্ণ ২ পয়েন্ট।
হতশ্রী ব্যাটিং
সুপার এইটে এসেই নিজেদের ব্যাটিংয়ের আসল রূপ দেখিয়েছে বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লে’তে যেখানে অজি দুই ওপেনার ওভার প্রতি ১০ করে রান তুলেছেন, সেখানে পাওয়ার প্লে’র এক ওভারে কোনো রানই নিতে পারেননি টাইগার ওপেনার লিটন দাস।
এক উইকেট হারিয়ে দলীয় পুঁজি ৩ ওভারে যখন ছিল ৮ রান, এই সময়ে শূন্য রানে ছিলেন লিটন। এরপর বল মোকাবিলায় দুই অঙ্কে পেরিয়ে রানের খাতা খোলেন তিনি। একপর্যায়ে ১২ বলে ২ রানে ছিলেন এই ওপেনার। শেষ পর্যন্ত অজি বোলিং তোপে কুপোকাত হওয়া লিটন ২৫ বলে ১৬ রানে মাঠ ছেড়েছেন।
পাওয়ার প্লে থেকে অন্য দলগুলো যেখানে কাড়ি কাড়ি রান আদায় করে নেয়, সেখানে ব্যতিক্রম টাইগাররা। লিটনকে দেখে মনে হচ্ছিল, ক্রিকেটের রাজকীয় ফরম্যাট টেস্ট খেলছেন তিনি, যেখানে উইকেটে টিকে থাকাই মোক্ষম বিষয়।
অধিনায়ক শান্তর সঙ্গে ৫১ বলে ৫৮ রানের জুটি গড়লেও কখনোই থাকে সাবলীল মনে হয়নি। ঠেকায় পড়ে খেলতে নেমেছেন বলেই মনে হচ্ছিল।
সত্যি বলতে এই সময়েই পিছিয়ে পড়ে লাল-সবুজ শিবির। লিটনের হতশ্রী ব্যাটিংয়ের পর আর ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজে পায়নি অন্য ব্যাটাররা।
এরপর ব্যাট হাতে নেমে অজিদের বিপক্ষে সেট হতে এবং রান তুলতে বেশ কালক্ষেপণ করেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা।
স্ট্রাইকরেট বিবেচনায় খানিকটা উন্নতি হলেও শান্ত-ও নিজের চিরচেনা বৃত্তেই ঘুরপাক খেয়েছেন। ২২ বলে ৩১ রানে দুর্দান্ত খেলছিলেন টাইগার দলপতি। এরপর ৪১ রানে ফেরার আগে বাকি ১০ রান তুলতেই ১৪টি বল খেলেন তিনি। তাই শান্তর ব্যাটে বাংলাদেশের খুব একটা লাভ হয়েছে বলে মনে হয় না। তবে নিশ্চিত হারের ভয় এবং অধিনায়কত্ব বাঁচাতে এটাই যথেষ্ট। হাজার হোক, অধিনায়ক কোটায় দলে টিকে আছেন তিনি।
এরপর ১৪২ স্ট্রাইক রেটে ২৮ বলে ৪০ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন তাওহীদ হৃদয়। চলতি আসরে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটারও তিনিই। তবে অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে এটি যথেষ্ট নয়, সেটি এই মিডল-অর্ডার ব্যাটারও ভালোই জানেন; এ নিয়ে সন্দেহ নেই। আর শেষ ৩ ওভারে ৫ বল মোকাবিলায় মাত্র ৫ রান তুলেন এই ব্যাটার।
মাঝের সময়টাতে বল প্রতিও রান তুলতে পারেননি ব্যাটাররা। বিপরীতে নিয়মিত বিরতিতে খুইয়েছে উইকেট। এরপর তাসকিন ও তানজিমের কল্যাণে টেনেটুনে ১৪০ তুলেছে বাংলাদেশ।
কামিন্সের হ্যাটট্রিক
চতুর্থ অস্ট্রেলিয়ান এবং বিশ্বমঞ্চে দ্বিতীয় হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে হ্যাটট্রিক করেন প্যাট কামিন্স। এর আগে, সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের বৈশ্বিক মহারণের প্রথম আসরে ব্রেট লি, ২০২০ সালে অ্যাস্টন অ্যাগার এবং ২০২১ সালে নাথান ইলিশ হ্যাটট্রিক করেছিলেন।
তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই চার হ্যাটট্রিকের তিনটিই বাংলাদেশের বিপক্ষে করেছেন তারা। শুধু অ্যাগার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েছিলেন।
ইনিংসের ১৮তম ওভারের শেষ দুই বলে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মাহেদি হাসানকে বোকা বানান কামিন্স। আর ইনিংসের শেষ ওভারে তাওহীদ হৃদয়কে হ্যাজলউডের মুঠোবন্দি করেন অজিদের টেস্ট ও ওয়ানডে অধিনায়ক। তবে উদযাপনে মাততে দেখা যায়নি তাকে।
অচেনা সাকিব
অজিদের বিপক্ষে ব্যাটে-বলে দুই বিভাগেই সবসময় সেরা সাকিব আল হাসান। এর আগে, ১০ বারের মোকাবিলায় প্রতিবারই সাকিবের অবদান ছিল। তবে এবার বেশ অচেনা সাকিব। সুপার এইটের এই ম্যাচে সাকিবকে পাওয়াই যায়নি।
এদিন ১০ বলের ইনিংস অন্তত তিনবার ক্যাচ তুলেন সাবেক এই অধিনায়ক। মনে হচ্ছিল, মাঠে বেশ বোরিং ফিল করেছেন তিনি। তাই দ্রুতই প্যাভিলিয়নের ঠান্ডা হাওয়ার নিচে প্রশান্তির ঘুম দিতে চাচ্ছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ফিরেছেন মার্কাস স্টয়নিসের বলে। সহজ করে বললে, টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর অলরাউন্ডারের কাছে পরাস্ত তিন নম্বর অলরাউন্ডার।
এর আগে, গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষেও ব্যাটিং নিয়ে তার অস্বস্তি স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল।
এরপর বোলিংয়ের সময় ১২তম ওভারেও তাকে আক্রমণে দেখা যায়নি। একমাত্র নেপালের সঙ্গে ম্যাচের শেষ দিকে জোড়া উইকেট শিকার করেছিলেন তিনি। তাই ম্যাচের পর টাইগার সমর্থকদের প্রশ্ন, দলে সাকিবের কাজ কী তবে!
নখদন্তহীন বোলিং ইউনিট
অজিদের বিপক্ষে টাইগারদের দুর্দান্ত পেস ইউনিটকে বেশ অসহায়ই মনে হয়েছে। সোজা কথায়, নখদন্তহীন।
এদিকে ম্যাচ শেষে নাজমুল হোসেন শান্ত দাবি করেছিলেন, আমাদের উচিত ছিল অন্তত ১৭০ রান করা।
আসলেই কি তাই, ২০০ রান করলেও কি ম্যাচ জেতা সম্ভব ছিল! তাসকিন-মোস্তাফিজকে বোলিং দেখে কোনোভাবেই তা মনে হয়নি। কেননা, ইনিংসের শুরু থেকেই ওভার প্রতি ১০ রান করে তুলেছিলেন অজি দুই ওপেনার।
বৃষ্টি বাগড়ায় ম্যাচ বন্ধ হওয়ার আগে ১১ দশমিক ২ ওভারে তিন অঙ্কের কোটা পেরিয়ে যায় অজিদের দলীয় সংগ্রহ। তবে সতীর্থদের আক্ষেপের মাঝে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন লেগস্পিনার রিশাদ। অন্যদের হতাশাময় পারফরম্যান্সে নিজেকে আলাদা করে চেনান এই লেগি। এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে নিয়েছেন ৯ উইকেট।
এই উইকেটের ফায়দা লুফে নিতে পারেননি পেসাররা। আগের ম্যাচের নায়ক তানজিম উইকেট বঞ্চিত হন, তাওহীদ হৃদয়ে যৎসামান্য ভুলে।
অন্যদিকে ৮ বল ঘুরিয়ে ২২ রান দেন তাসকিন আহমেদ। এতে খুব সাধারণ মনে হচ্ছিল বাংলাদেশের বোলিং। যা ম্যাচ হারের এবং ভোগান্তির অন্যতম কারণ-ও বটে।
খবর পেতে সিলেটের আলাপ লাইক পেইজে ( LIKE ) দিতে ক্লিক করুন
সিলেট আলাপ// মাহফুজ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : এড. রিপা
সম্পাদক ও প্রকাশক : কুলসুমা বেগম(কলি)
নির্বাহী সম্পাদক : জিল্লুর রহমান
প্রধান কার্যালয় : আরকে মিশন রোড, ঢাকা।
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : আম্বরখানা, সিলেট-৩১00।
ইমেইল : sylheteralap@gmail.com
যোগাযোগ : 017184414066