ওয়েছ খছরু :এমন কোনো অপরাধ নেই যা আদম করেনি। তার নাম শুনলেই ভয়ে কাঁপে মজুমদারী এলাকার মানুষ। পুলিশের ভাষায়- আদম ‘হেভিচ্যুয়াল ক্রাইমার’। অপরাধ করে, ধরা পড়ে। কিছু দিন জেলে থাকে। এরপর বেরিয়ে এসে ফের অপরাধ করে। এভাবে অপরাধ করতে করতে আদম সিলেটের আম্বরখানা এলাকার সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। চলতি মাসে এয়ারপোর্ট থানায় আদমের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন লাক্কাতোড়া চা বাগানের কুমিল্লা লাইনের বাসিন্দা আলী আজগর। তিনি পেশায় একজন চা শ্রমিক। এই মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে আদমকে।
আলী আজগর জানিয়েছেন- পহেলা জানুয়ারি তার কিশোর ছেলে রাশেদ আম্বরখানা যাওয়ার পথে তাকে আদম ও তার সহযোগীরা অপহরণ করে আম্বরখানার মণিপুরী বস্তি মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মারধর করে সঙ্গে থাকা মোবাইল ও টাকা পয়সা নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে আদম ও তার সহযোগীরা রাশেদের উরুতে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। এতে গুরুতর আহত রাশেদকে প্রথমে সিলেটে এবং পরে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য পাঠানো হলে তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে। এখন কিশোর রাশেদ পঙ্গুত্ববরণ করছে।
এ ঘটনায় এয়ারপোর্ট থানায় মামলা দায়ের করার পর তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় ফাঁড়ি ইনচার্জ সুজিত চক্রবর্তীকে। তবে মামলা দায়েরের পর থেকে আত্মগোপনে চয়ে যায় আদম। তবে পুলিশ এ ঘটনার অপর আসামি রিয়াজকে কয়েকদিন আগে গ্রেপ্তার করে। এরপর রিয়াজকে রিমান্ডে এনে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে পুরো ঘটনার তথ্য পেয়ে যায়। রিয়াজ ঘটনার আদি-অন্ত স্বীকার করে। এবং মূল অপরাধী হিসেবে আদমের নাম প্রকাশ করে। ওই সময় রিয়াজের স্বীকারোক্তির সূত্র ধরে পুলিশ রেজু আহমদ রেজা নামের আরেক অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে। তবে; পলাতক ছিল আদম। বুধবার বিকাল ৫টার দিকে আম্বরখানা পয়েন্টের কাছে ইস্টিকুটুম রেস্টুরেন্টের সামনে আরেক ঘটনা ঘটায় আদম। ওই সময় সে মামলার বাদী আলী আজগরকে মারধর করে। এতে স্থানীয় লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে পুলিশ গিয়ে আদমকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে। গতকাল আদমকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গতকাল সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও এডিসি সাইফুল ইসলামের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে; আদালতের বিরুদ্ধে অতীতে নগরের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা হয়েছে। এর মধ্যে দ্রুত বিচার, ছিনতাই সহ নানা অপরাধের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে এসব মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ৭টি মামলা রয়েছে। আরও ৬টি মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। আম্বরখানা ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুজিত চক্রবর্তী মানবজমিনকে জানিয়েছেন-‘আদম ভয়ঙ্কর অপরাধী। এর আগেও সে একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছিল। বেরিয়ে এসে আবার অপরাধে জড়ায়। তার একটি গ্যাং রয়েছে ওই এলাকায়।’ ‘ইতিমধ্যে তার অপরাধ গ্যাংয়ের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও কয়েকজনকে পুলিশ খুঁজছে। সর্বশেষ তার গ্যাংয়ের হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে একটি কিশোর পঙ্গু হয়েছে বলে জানান তিনি।’ এদিকে- আম্বরখানা পয়েন্টে সংঘটিত ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায়ও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন- আদম ওরফে আদাম ওরফে আদহাম নগরের মজুমদারী ১৫২ নং বাসা (ভাসমান) বাসিন্দা। তার পিতার নাম সালমান আহমদ বুদু। পিতা বুদু মিয়া ভাড়া বাসায় বসবাস করেন এবং ওই এলাকার এক ব্যবসায়ীর কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন। তার ছেলে আদম ছোট কাল থেকেই অপরাধের সঙ্গে জড়িত। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন- ছোট কাল থেকে আদম চুরি সহ নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। এরপর কলোনিকেন্দ্রিক অপরাধে সে গ্যাং গড়ে তোলে। অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সে মানুষের হাতে পিটুনি খেয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছে বার বার। তার যন্ত্রণায় স্থানীয়রাও অতিষ্ঠ হয়ে উঠেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা একাধিক বার তার বিচার-সালিশ করেও সঠিক পথে ফেরাতে পারেনি।
তারা জানিয়েছেন- আদম গত কয়েক বছর ধরে পুরোপুরি বেপরোয়া। আম্বরখানাকেন্দ্রিক ছাত্রলীগের একটি গ্রুপের কর্মী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ছাত্রলীগের ওই গ্রুপের নেতারা আম্বরখানা নিয়ন্ত্রণ করতে আদমকে ব্যবহার করেন। গত বছর আম্বরখানা এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত করে আদম আলোচনায় আসে। নগরের আম্বরখানা কলোনির বাসিন্দারা তার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ। তার গ্যাংয়ে থাকা অন্তত ২০-২৫ জনকে নিয়ন্ত্রণ করে আদম। রাত হলেই সে আম্বরখানা কলোনিতে অবস্থান করে। সেখানে নগরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে যুবকরা জড়ো হয়। রাতভর কলোনি মাঠে চলে মাদক সেবন, বিক্রি সহ অসামাজিক কাজ। এ নিয়ে কয়েকদফা প্রতিবাদ করে আদম ও তার বাহিনীর হাতে নাজেহাল হয়েছেন কলোনির বাসিন্দারা। আম্বরখানা এলাকার সাহেদ মিয়ার কলোনি অপরাধে আলোচিত একটি কলোনি। এটি নিয়ন্ত্রণ করে আদম। স্থানীয় সিএনজি অটোরিকশা চালকরা জানিয়েছেন- সাম্প্রতিক সময়ে এয়ারপোর্ট সড়কে কয়েকটি সশস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি ঘটনা ঘটিয়েছে আদম ও তার চক্রের সদস্যরা। অনেকেই আদমকে চিনলেও ভয়ে মুখ খুলেন না।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন- আম্বরখানা কলোনি মাঠে অপরাধ কর্মকাণ্ডের ঘটনার পর আদমের দুই সহযোগীকে কয়েকদিন আগে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। তারা মজুমদারী এলাকায় সাদাপাথরে আসা পর্যটকদের অপহরণ করে সর্বস্ব ছিনিয়ে নিয়েছিল।
খবর পেতে সিলেটের আলাপ লাইক পেইজে ( LIKE ) দিতে ক্লিক করুন
সিলেট আলাপ// শাকিব

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : এড. রিপা
সম্পাদক ও প্রকাশক : কুলসুমা বেগম(কলি)
নির্বাহী সম্পাদক : জিল্লুর রহমান
প্রধান কার্যালয় : আরকে মিশন রোড, ঢাকা।
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : আম্বরখানা, সিলেট-৩১00।
ইমেইল : sylheteralap@gmail.com
যোগাযোগ : 017184414066