মরিয়ম চম্পা :শারীরিকভাবে ভালো নেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা। কিডনিতে পাথর, মেরুদণ্ডের হাড্ডি ক্ষয়, পায়ের লিগামেন্টে সমস্যাসহ একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন তিনি। ১৫ দিন ধরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে চিকিৎসা খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন খাদিজা এবং তার মা। এদিকে সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার আত্মহত্যার ঘটনায় দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খাদিজা। খাদিজা বলেন, অবন্তিকাকে আমি একজন সাহসী শিক্ষার্থী বলে জানি। আমাকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যখন কারাগারে নেয়া হয় তখন তিনি প্রতিবাদ ও আন্দোলন করেছিলেন। তিনি আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। অনেকেই বলেছেন, আলোচনায় আসতে কিংবা নেত্রী হতে তিনি এসব করেছেন। কিন্তু আমি তো জানি তিনি কতোটা প্রতিবাদী এবং সাহসী একজন শিক্ষার্থী।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে আত্মহত্যা বিরোধী সাহসী বক্তব্য দিয়ে তিনিই যে শেষ পর্যন্ত এমনটা করবেন এটা মেনে নেয়ার মতো না। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী এবং একজন প্রক্টরের দ্বারা এভাবে হয়রানির শিকার হয়ে তাকে আত্মহত্যা করতে হয়েছে।
তার মতো প্রতিবাদী শিক্ষার্থী কতোটা খারাপ পরিস্থিতিতে এমনটা করতে পারেন সেটা ভাবতেই শিউরে উঠি। এটা একটি টেকনিক্যাল মার্ডার। তাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই। খাদিজা বলেন, বর্তমানে শারীরিকভাবে আমি অসুস্থ। অসুস্থতা নিয়েই নিয়মিত ক্লাস করছি। এর আগে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলাম। কিডনিতে পাথর ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। মেরুদণ্ডের হাড়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ডাক্তার বলেছেন, হাড় ক্ষয় হয়েছে। পায়ের গোড়ালি থেকে উপরের অংশে তীব্র যন্ত্রণা। মাইগ্রেনের সমস্যা রয়েছে। সব মিলিয়ে শারীরিকভাবে খুব সমস্যায় আছি। এদিকে খাদিজার মা বলেন, খাদিজাকে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে আর কুলাতে পারছি না। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। মামলা চালাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়েছি। চিকিৎসক জানিয়েছেন নিয়মিত তাকে ওষুধ খেতে হবে।
এবং ফলোআপে থাকতে হবে। কারাগারে থাকাকালীন কর্তৃপক্ষকে ওর পা এবং মেরুদণ্ডের সমস্যার বিষয়ে বলেছিল। কিন্তু তারা ডাক্তার দেখানোর ব্যবস্থা করেনি। এদিকে জবির আরেক শিক্ষার্থী অবন্তিকার আত্মহত্যার বিষয়ে তিনি বলেন, একটি সন্তানকে বড় করে তুলতে তার বাবা-মাকে কতোটা ত্যাগ স্বীকার করতে হয় সেটা কেবল তারাই জানেন। এভাবে একটি মেয়েকে শিক্ষকসহ সহপাঠীদের মাধ্যমে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়ার প্রতিবাদের ভাষা নেই। শুনেছি মেয়েটি অনেক সাহসী এবং সাংগঠনিক ছিল। বাবা মায়ের কতো স্বপ্ন ছিল তাকে নিয়ে কিন্তু সবকিছু শেষ করে দিলো ওরা। এটি আত্মহত্যা বলবো না। এটি এক ধরনের হত্যা। এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি একজন মা হিসেবে। উল্লেখ্য, খাদিজাতুল কুবরার বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ১১ই ও ১৯শে অক্টোবর কলাবাগান ও নিউমার্কেট পুলিশ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে তিনি কারামুক্ত। এবং সম্প্রতি তার মামলাটি নিষ্পত্তি হয়েছে বলে জানা গেছে।
খবর পেতে সিলেটের আলাপ লাইক পেইজে ( LIKE ) দিতে ক্লিক করুন
সিলেট আলাপ// তৌকির

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : এড. রিপা
সম্পাদক ও প্রকাশক : কুলসুমা বেগম(কলি)
নির্বাহী সম্পাদক : জিল্লুর রহমান
প্রধান কার্যালয় : আরকে মিশন রোড, ঢাকা।
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : আম্বরখানা, সিলেট-৩১00।
ইমেইল : sylheteralap@gmail.com
যোগাযোগ : 017184414066