সিলেট আলাপ ডেস্ক: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা যুবলীগের আওতাধীন ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে অবশিষ্ট ৬টি ইউনিয়নের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে সোমবার রাত ১১টায়। দীর্ঘদিন পর এই কমিটি ঘোষণা করা হয়। উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক ফারুক আহমদ ও যুগ্ম আহবায়ক মোঃ শাহাব উদ্দিন, আহমেদ মোস্তাকিন স্বাক্ষরিত প্যাডে সোমবার দিবাগত রাত ১১টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল কমিটি ভাইরাল হয়। ঘোষিত কমিটিতে ২নং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়ন যুবলীগের কমিটিতে দেলোয়ার হোসেন লনিকে আহ্বায়ক ও হেলাল উদ্দিন এবং কবির আহমদকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ২১সদস্য বিশিষ্ট কমিটি,৩নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়নে এডভোকেট রাশেদ পারভেজ লাভলুকে আহ্বায়ক,রফিক সরকার এবং শেরগুল গুসাই, সুহেল আহমদ, রুবেল আহমদকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ২১সদস্য বিশিষ্ট কমিটি। ৫নং পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নে গোলাম করিম শামিমকে আহ্বায়ক ও ফয়সল আহমদ এবং মোশাহীদ আলীকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ২১সদস্য বিশিষ্ট কমিটি। ১০ নং পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়নে আবুল খায়েরকে আহ্বায়ক ও ইনশাদ হোসেন রাজীব এবং আব্দুল করিমকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ২১সদস্য কমিটি। ১১নং মধ্যে জাফলং ইউনিয়নে শাহ আলমকে আহ্বায়ক ও জালাল উদ্দীন ও তোফায়েল আহমদকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ২১সদস্য বিশিষ্ট কমিটি। ১২নং গোয়াইনঘাট সদর ইউনিয়নে মো: নজরুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে এবং বিলাল উদ্দিন ও সালেহ আহমদকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ২১সদস্য কমিটি।
গোয়াইনঘাট উপজেলা যুবলীগের এই ৬টি ইউনিয়ন কমিটি গঠনের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হতেই ত্যাগী ও নিবেদিত কর্মীদের বাদ দিয়ে বিএনপি-জামায়াত ও আওয়ামী লীগের প্রকাশ্য শত্রুদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্তী করার ফলে নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়। বিভিন্ন ইউনিয়নের পদ বঞ্চিতরা উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়ক’র বিরুদ্ধে বাধ্য হয়ে শোকের মাসে ঝাড়ু মিছিল দেন এবং কমিটি থেকে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে ত্যাগী এবং দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ কর্মিদের মূল্যায়ন করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে কথা হলে গোয়াইনঘাট সদর ইউনিয়ন যুবলীগের নবগঠিত আহবায়ক কমিটির সদস্য মামুনুর রশিদ বলেন,আমি অবিলম্বে উক্ত কমিটি বাতিলের দাবি জানাচ্ছি। আওয়ামীলীগের ত্যাগী, আদর্শবান নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে জামায়াত, বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের হাইব্রিড নেতাদের দিয়ে কমিটি করা হয়েছে এটা কখনো মেনে নিতে পারিনা। উক্ত কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হয়ে আসা সালেহ আহমদ স্হানীয় বিএনপির সাবেক সক্রিয় কর্মী। সে বিগত ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে একত্রিত হয়ে আমাদের আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের বেধড়ক পিটিয়েছে। কমিটিতে বিতর্কিতদের অন্তর্ভুক্তির খবরে বিভিন্ন ইউনিয়ন যুবলীগের কর্মিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও উপজেলা যুবলীগের আহবায়কসহ দায়িত্বশীল নেতাকর্মীদের কঠোর সমালোচনা করছেন। উপজেলার ১০ নং পশ্চিম আলীরগাও ইউনিয়ন যুবলীগের কমিটির আহবায়ক হিসেবে আবুল খায়েরকে অন্তর্ভুক্ত করায় যুগ্ম আহবায়ক ইনসাদ হোসেন রাজিব নিজের ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন
"ভাল তো, ভাল না?
দয়া করে আমাকে বাদ দিয়ে অভিনন্দন টা দিয়েন"।
ফ্যাক্টঃ ইউনিয়ন যুবলীগ। একই কমিটির সদস্য হয় আসা নাজিম উদ্দিন লিখেছেন কর্মী দুর্ভিক্ষ চলছে আমাদের ইউনিয়নে
আমার গ্রামের ফয়সল নামে কোন নেতা নাই....।
গোয়াইনঘাট সদর ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা সালেহ আহমদ লিখেছেন ১২ নং সদর ইউনিয়ন বিএনপি মার্কা যুবলীগের কমিটির বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল রেডি,
পূর্ব আলীরগাও ইউনিয়ন যুবলীগের নবগঠিত কমিটির নেতা শাহিম আহমদ শাহিন লিখেছেন, গোয়াইঘাট উপজেলা অর্থ লুটের আহ্বায়ক কুলাঙ্গার ফারুকের কারণে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে টাকার মাধ্যমে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়,কিন্তু এই লিবিসটিক মার্কা এবং লেডিস ফারুকের কারণে গোয়াইনঘাট উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের যুবলীগের তৃণমূল থেকে উঠে আসা কেউই স্থান পায়নি, মধ্যরাতে কমিটি ঘোষণা করার কারণ কি? এই কুলাঙ্গারের রাজনীতির মূল লক্ষ্য উদ্দেশ্য অর্থ ফায়দা হাসিল করা,এই ধরনের কুলাঙ্গার কে পদ পদবী থেকে বহিষ্কার করা হোক,,,,,। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরোয়ার লিখেছেন যদি শোকের মাস না হতো তাহলে ১৩ টি ইউনিয়নে লেডিসের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল হইতো।
গোয়াইনঘাট উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক, যুগ্ম আহবায়কদের বিরুদ্ধে গতকাল থেকে কঠোর সমালোচনা চলছে।
এদিকে মঙ্গলবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে সাত টায় গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবে উপস্হিত সাংবাদিকদের সামনে ১২ নং গোয়াইনঘাট সদর ইউনিয়ন যুবলীগের ৭জন নেতা নবগঠিত কমিটির পদপদবী থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছেন। বিষয়টি মুহুর্তেই ব্যাপক ভাইরাল হয়।
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : এড. রিপা
সম্পাদক ও প্রকাশক : কুলসুমা বেগম(কলি)
নির্বাহী সম্পাদক : জিল্লুর রহমান
প্রধান কার্যালয় : আরকে মিশন রোড, ঢাকা।
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : আম্বরখানা, সিলেট-৩১00।
ইমেইল : sylheteralap@gmail.com
যোগাযোগ : 017184414066