সিলেটের আলাপ ডেস্ক : দিনভর নাটকীয়তা। নেতাকর্মীদের অধীর আগ্রহ। বিএনপি’র মহাসমাবেশ আর আওয়ামী লীগের ৩ সংগঠনের শান্তি সমাবেশের স্থান নিয়ে টানাহেঁচড়া। রাতে আসে নাটকীয় সিদ্ধান্ত। বিএনপি মহাসমাবেশ একদিন পিছিয়ে শুক্রবার নয়াপল্টনে করার ঘোষণা দেয়। এদিন বেলা দুইটায় সমাবেশ শুরুর কথা জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কোনো ধরনের উস্কানিতে পা না দিয়ে এদিন নেতাকর্মীদের সমাবেশে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের দলীয় সিদ্ধান্ত জানান। তিনি বলেন, ঢাকায় বৃহস্পতিবার মহাসমাবেশ করতে ২৩শে জুলাই ডিএমপিকে অবহিত করা হয়েছিল। ডিএমপি উচ্চ আদালতের নির্দেশনার কথা বলে কর্মদিবসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে।
তিনি বলেন, বিএনপি বরাবরই শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাসী বিধায় সরকার ও সরকারদলীয় উস্কানি সত্ত্বেও সীমাহীন ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে।
বিএনপি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে দৃঢ় বিশ্বাসী বিধায় বৃহস্পতিবারের মহাসমাবেশ শুক্রবার ছুটির দিন বেলা ২টায় নয়াপল্টনে করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আশা করি সরকার বা সরকারি কোনো সংস্থা এক্ষেত্রে আর বাধার সৃষ্টি করবে না। কোনো উস্কানিতে পা না দিয়ে নেতাকর্মীদের এই সমাবেশে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। ডিএমপি’র অনুমতি নেয়া হবে কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনুমতি দেয়ার বিষয় নেই। আমরা তাদের অবহিত করেছি।
ওদিকে বুধবার দুপুরের পর ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে দুই দলকে নিজেদের সমাবেশ স্থান পরিবর্তন করতে বলা হয়। বিএনপিকে পরামর্শ দেয়া হয় গোলাপবাগ মাঠে সমাবেশ করার বিষয়ে ভাবতে। আওয়ামী লীগের তিন সংগঠনকে বলা হয় মহানগর নাট্যমঞ্চ বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে সমাবেশ করতে। পরে অবশ্য আওয়ামী লীগ শেরেবাংলা নগরের পুরাতন বাণিজ্যমেলা মাঠে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে সমাবেশের স্থান নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতারা বৈঠকে বসেন গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে।
ওদিকে পূর্ব ঘোষিত বিএনপি’র মহাসমাবেশে অংশ নিতে বুধবার অনেক নেতাকর্মী ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন। গতকাল দুপুরের পর থেকে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আশপাশে জড়ো হতে থাকেন তারা। দুপুরের পর সমাবেশের স্থান নিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অবস্থান জানার পর সতর্ক ব্যবস্থা নেন নেতারা। তারা নেতাকর্মীদের নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বলেন। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভিড় হওয়ায় আলোচনার জন্য কেন্দ্রীয় নেতারাও গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে চলে যান। বিকাল থেকে নয়াপল্টনে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সেখানে জলকামান এবং এপিসি মোতায়েন করা হয়। পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে সন্ধ্যার পর নয়াপল্টন এলাকায় নেতাকর্মীদের ভিড় কমে যায়।
বিএনপি’র মহাসমাবেশের দিনে সমমনা দলগুলোও সমাবেশ ঢাকায় তাদেরও অপেক্ষা ছিল। বিএনপি’র সিদ্ধান্ত আসার পর এসব দলের পক্ষ থেকে শুক্রবার সমাবেশ করার কথা জানানো হয়।
ওদিকে আওয়ামী লীগের ৩ সহযোগী সংগঠনের শান্তি সমাবেশ ঘিরেও বেশ নাটকীয়তা হয়। সমাবেশের স্থান বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে করার ঘোষণা দেয়া হলেও ঢাকা মহানগর পুলিশ গতকাল তাদের মহানগর নাট্যমঞ্চ বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে সমাবেশ করার পরামর্শ দেয়। রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠ বা শহীদ মিনার চত্বরে সমাবেশ করার জন্য কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করে ছাত্রলীগ। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বৈঠকও করে। পরে একপর্যায়ে জানা যায় শেরেবাংলা নগরে পুরাতন বাণিজ্যমেলার মাঠে শান্তি সমাবেশ হবে।
সিলেট আলাপ/রিপা
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : এড. রিপা
সম্পাদক ও প্রকাশক : কুলসুমা বেগম(কলি)
নির্বাহী সম্পাদক : জিল্লুর রহমান
প্রধান কার্যালয় : আরকে মিশন রোড, ঢাকা।
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : আম্বরখানা, সিলেট-৩১00।
ইমেইল : sylheteralap@gmail.com
যোগাযোগ : 017184414066