হাফিজুর রহমান :সিলেটের বিয়ানীবাজার পৌরশহরের প্রধান সড়ক গুলোতে পরিবহন স্ট্যান্ড নিয়ে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। পৌরশহরকে একটি পরিকল্পিত শহর হিসেবে রূপ দেয়ার জন্য পরিবহন স্ট্যান্ড অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ায় পুরো শহর এখন পরিণত হয়েছে অঘোষিত স্ট্যান্ডে।
সিলেট নগরী থেকে বিয়ানীবাজার পৌরশহরের প্রবেশমুখ উত্তরবাজারেই অঘোষিতভাবে গড়ে তোলা হয়েছে ৫টি স্ট্যান্ড। প্রধান সড়কের উপরে ঢাকা ও সিলেটগামী পরিবহন এবং সিএনজি ফোরস্ট্রোকের সারিবদ্ধ দীর্ঘলাইন এ জনপদের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ক্রমেই বৃদ্ধি করছে। এছাড়াও দক্ষিণ বাজারে আরোও ৪টি এবং কলেজ রোডে ২টি পরিবহণ স্ট্যান্ড জনভোগান্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি যানজট বাড়াচ্ছে।
বিয়ানীবাজার পৌরশহরের প্রধান প্রবেশমুখে অনির্ধারিতভাবে সবচেয়ে বড় পরিবহন স্ট্যান্ড গড়ে তোলা হয়েছে। এ স্ট্যান্ডে যত্রতত্র গাড়ি রাখার কারণে সড়কের প্রস্থ যেমন সংকুচিত হয়েছে তেমনি অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটছে। এখান থেকে দূরপাল্লার গাড়ি ঢাকা, সিলেট এবং সিএনজি ফোরস্ট্রোকসহ ছোট যানগুলো গোলাপগঞ্জ, চারখাই, জিরো পয়েন্ট, দুবাগ, বৈরাগীবাজারসহ প্রত্যন্ত এলাকায় যাতায়াত করে। ফলে প্রধান সড়কের প্রধান দু’ধার থাকে সারিবদ্ধ গাড়ির দখলে। তাছাড়া অদূরে অবস্থিত মাইক্রো-কার স্ট্যান্ড। কাছাকাছি একাধিক পরিবহন স্ট্যান্ড থাকায় মূলত ‘উত্তরবাজার পরিবহন স্ট্যান্ড’ বলে স্বীকৃতি পাচ্ছে। এসব স্ট্যান্ডে বিভিন্ন সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে থাকে। একাধিকবার পরিবহন শ্রমিকরা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়েছে।
জানা যায়, পৌরশহরের উত্তরবাজারকে পরিচ্ছন্ন করে তুলতে ২০০৮ সালে ফখর উদ্দিন-মইন উদ্দিনের সরকারের মেয়াদে শহীদ টিলায় পরিবহন স্ট্যান্ড সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু হয়। মাঠি ভরাট করে পরিবহন স্ট্যান্ড উপযোগী করে ওই স্থানটি সংস্কার করে পৌর কর্তৃপক্ষ। বিয়ানীবাজার উপজেলার দায়িত্বে নিয়োজিত সেনাবাহিনীর মেজর নিজে বিষয়টি দেখভাল করেন। দু’তিনদিন শহীদ টিলায় সংস্কার করা ওই স্ট্যান্ড থেকে যাত্রী উঠানামা করানো হয়। যৌথবাহিনী পৌর কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে শহীদ টিলার স্ট্যান্ডটি পরিবহন শ্রমিকদের বুঝিয়ে দেয়। শহীদ টিলার পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ভূমিতে যথারীতি বাসস্ট্যান্ড স্থাপন করা হয়। একইভাবে দক্ষিণ বাজারের পরিবহন স্ট্যান্ড সুপাতলায় রাস্তার মুখে এবং কলেজ রোডের স্ট্যান্ডটি লাসাইতলায় নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু অল্পদিনের ব্যবধানে কলেজ রোড এবং উত্তর বাজারের পরিবহন শ্রমিকরা পূর্ব নির্ধারিত স্থানেই ফিরে আসে। যদিও দক্ষিণ বাজারের মাইক্রো-কার শ্রমিকরা সুপাতলায় তাদের স্ট্যান্ডটি এখনো ব্যবহার করছে।
বিভিন্ন সময় কর্তৃপক্ষ মূল শহরের বাইরে পরিবহন স্ট্যান্ডগুলো স্থাপনের উদ্যোগ নিলেও সংশ্লিষ্টদের অসহযোগিতার কারণে সেটি আর সম্ভব হয়ে উঠেনি। ফলে অযথাই যানজট সম্পর্কিত বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে পৌরবাসীকে। খোদ থানার নিচেই যানবাহনগুলো এলোমেলো রেখে দেন পরিবহন শ্রমিকরা। এখানকার ডিভাইডারের দু’পাশ এসব গাড়ির দখলে থাকায় রাস্তা অনেকটা বন্ধ হয়ে থাকে। একই অবস্থা দক্ষিণ বাজারেও। বারইগ্রামমুখী যানবাহনগুলো যেমন ইচ্ছা তেমনিভাবে রেখে দেয় পরিবহন শ্রমিকরা।
বিয়ানীবাজার মাইক্রো চালক সমিতির সভাপতি বিলাল উদ্দিন বলেন, শহরের বাইরে পরিবহন স্ট্যান্ড ব্যবহার করলে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরো বাড়বে। আমরা যাত্রীদের উপকারের জন্যই স্ট্যান্ডটি উত্তরবাজারে নিয়ে এসেছি।
তিনি আরোও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই পৌর শহরের ওপর দিয়ে প্রতিদিনই দূরপাল্লার যান চলাচল করায় যানজট সমস্যা ক্রমেই প্রকট আকার ধারণ করে। পথচারীদের দুর্ভোগও চলে যায় অসহনীয় পর্যায়ে। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে বিয়ানীবাজার পৌর কর্তৃপক্ষ বিগত দিনে যৌথবাহিনীর সহযোগিতায় শহরের উত্তর বাজারের গাড়িগুলোর জন্য শহীদটিলার পাশে একটি এবং দক্ষিণ বাজারের গাড়িগুলোর জন্য সুপাতলার পাশে পৃথক আরেকটি বাসস্ট্যান্ড নির্মাণের ভূমি অধিগ্রহণ করে। নির্ধারিত স্থানে অদ্যাবধি গাড়িগুলোর জন্য স্থায়ী স্ট্যান্ড গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি।
উত্তরবাজার সিএনজি ফোরস্ট্রোক চালক সমিতির নেতা কবির আহমদ বলেন, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক পরিবহন স্ট্যান্ড স্থাপন করা হলে আমরা সরে যাবো।
প্রায় ১৬ বছর পূর্বে বিয়ানীবাজার পৌরসভা স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় শহীদটিলা, সুপাতলা এবং লাসাইতলায় বাসস্ট্যান্ড নির্মাণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। কিন্তু পরিবহন শ্রমিকরা তাতে বেঁকে বসলে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে পিছু হটে পৌর কর্তৃপক্ষ। প্রায় তিন বছর পূর্বে লাসাইতলায় আধুনিক স্ট্যান্ড নির্মাণ করা হলেও সেটিও এখন অনেকটা পরিত্যক্ত। উদ্বোধনের পর থেকে একদিনের জন্যও ওই স্ট্যান্ডটি ব্যবহার করেনি শ্রমিকরা।
বিয়ানীবাজার পৌরশহরের উত্তর বাজারে সড়কের উপর যানবাহন। শনিবার সকাল ৭টার দিকে ছবিটি তোলা।
খবর পেতে সিলেটের আলাপ লাইক পেইজে ( LIKE ) দিতে ক্লিক করুন
সিলেট আলাপ/ আরওয়া

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : এড. রিপা
সম্পাদক ও প্রকাশক : কুলসুমা বেগম(কলি)
নির্বাহী সম্পাদক : জিল্লুর রহমান
প্রধান কার্যালয় : আরকে মিশন রোড, ঢাকা।
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : আম্বরখানা, সিলেট-৩১00।
ইমেইল : sylheteralap@gmail.com
যোগাযোগ : 017184414066