সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা:সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের কলকতখাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন নিলামে ক্রয় করে প্রায় দুই বছর ধরে শুভঙ্করের ফাঁকি দিয়ে সরকারী কোষাগারে টাকা জমা দিচ্ছেন না ঠিকাদার জিয়াউর রহমান।তিনি জামালগঞ্জ উপজেলার লম্বাবাক গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির প্রাক্তন ও বর্তমান সদস্যবৃন্দ এবং বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এলাকার শিক্ষার্থীর অভিভাবকবৃন্দ যৌথ স্বাক্ষরে গত ১৯ জুলাই জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগের থেকে জানা যায়, কলকতখাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ও জরাজীর্ণ ভবন ভাঙ্গার জন্য বিগত ২১ সেপ্টম্বর২০২১ইং তারিখে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট আবেদন করেন।
এই আবেদনের প্রেক্ষিতে তৎকালীন শিক্ষা অফিসার মো.শরীফ উদ্দিনের নির্দেশক্রমে সহকারি শিক্ষা অফিসার একেএম আ.ছালাম ও এলজিইডি একাউন্টস অফিসার মো.নুরুজ্জামানের উপস্থিতিতে রেজুলেশন করে ১২জানুয়ারী২০২২ইং তারিখে উন্মুক্ত নিলামে ভবনের সর্বোচ্চ দর ১লাখ ৪২ হাজার ৫শ টাকা নির্ধারিত হয়। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ঐ বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের ঠিকাদার জিয়াউর রহমান পুরাতন ভবনটি ক্রয় করেন।কিন্তু নিয়মানুযায়ী নিলামকৃত পুরাতন ভবন ভাঙ্গার আগেই নিলামের নির্ধারিত মূল্য ব্যাংক চালান মারফত সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে অত্র বিদ্যালয়কে একটি চালান কপি প্রদান করারপর পুরাতন ভবন ভেঙ্গে সেখানে নতুন ভবনের কাজ শুরু করার নির্দেশ থাকার পরও ঠিকাদার জিয়াউর রহমান তা করেন নি।
প্রায় ১বছর ৮মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও পুরাতন ভবন নিলামের টাকা অদ্যাবধি (২২ আগষ্ট ২৩) সরকারি কোষাগারে জমা দেননি ঐ ঠিকাদার।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করে নিলামের টাকা অদ্যাবধি পরিশোধ না করার প্রেক্ষিতে নিলামক্রেতা এবং নতুন ভবনের ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এই লিখিত অভিযোগ করেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির প্রাক্তন ও বর্তমান সদস্যবৃন্দ এবং ক্যাচমেন্ট এলাকার শিক্ষার্থীর অভিভাবকবৃন্দ।
এ ব্যাপারে ঠিকাদার জিয়াউর রহমানের সাথে তার মুঠোফোন ০১৭১৭১৯১৪৩৩) কল দিলে প্রথম কলেই কেটে দেন। পরে করেক বার কল দিলে কল ফরওয়ার্ড করে ফোন বন্ধ করে দেন।এ কারণে তার বক্তব্য জানা যায়নি।
বিদ্যালয়ের বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন জানান, বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের ঠিকাদার জিয়াউর রহমানই বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন নিলামে ক্রয় করেছেন।কিন্তু তিনি নিলামের টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়ে এবং ব্যাংক চালান কপি বিদ্যালয়ের কাছে দিতে দীর্ঘদিন ধরে টালবাহানা করে আসছেন।নিলামের টাকা পরিশোধ না করে নতুন ভবনের কাজ সমাপ্ত করে ঠিকাদার জিয়াউর রহমান নতুন ভবনের চাবি বিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করতে চাইলে আমরা বলেছি আগে নিলামের টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা না করলে নতুন ভবনের চাবি গ্রহণ করা হবে না। কারণ বিদ্যালয় হচ্ছে সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ।তাই আমরা বাধ্য হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.মাসুদ রানা জানান, আমি অভিযোগ পেয়ে তদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। তবে জিয়াউর রহমানকে টাকা পরিশোধ করতে বলেছি।সে টাকা দিয়ে দিবে বলেছে।টাকা পরিশোষ না করলে তদন্তের পর প্রয়োজনীয পদক্ষেপ নেয়া হবে।
তবে এই রিপোর্ট লেখা (২২ আগষ্ট) পর্যন্ত নিলামের টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেননি ঠিকাদার জিয়াউর রহমান।
খবর পেতে সিলেটের আলাপ লাইক পেইজে ( LIKE ) দিতে ক্লিক করুন
সিলেট আলাপ/ সাদিকা

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : এড. রিপা
সম্পাদক ও প্রকাশক : কুলসুমা বেগম(কলি)
নির্বাহী সম্পাদক : জিল্লুর রহমান
প্রধান কার্যালয় : আরকে মিশন রোড, ঢাকা।
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : আম্বরখানা, সিলেট-৩১00।
ইমেইল : sylheteralap@gmail.com
যোগাযোগ : 017184414066