সিলেট আলাপ ডেস্ক :উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে তৃতীয়বার বন্যার কবলে পড়েছে সিলেট। গত সোমবার জেলার বিভিন্ন উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। তবে সিলেট মহানগরে এখনো বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি। যদিও কিছু এলাকায় ভারি বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এতে দুর্গত মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়ছে। সিলেটবাসীর এই ভোগান্তি চলতি জুলাইজুড়ে থাকার শঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, জুলাই মাস পুরোটাজুড়েই বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে জুলাই মাসে। এছাড়া দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এতে জুলাই মাস পুরোটাজুড়েই বৃষ্টি ও বন্যার ভোগান্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ মনোয়ার হোসেন জানান, ‘এবারের বর্ষায় বৃষ্টি বেশি হবে এমন পূর্বাভাস আগেই দেওয়া হয়েছিল।
জুনে বেশ ভালোই বৃষ্টি হয়েছে। জুলাই মাসের প্রায় পুরো সময়জুড়ে থেমে থেমে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি চলতে পারে।’এদিকে সিলেট জেলা প্রশাসকের তথ্যমতে, জেলার ১৩ উপজেলায় ৯৭টি ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত। ১ হাজার ১৮৪টি গ্রামের ৭ লাখ ১১ হাজার ২২৬ জন মানুষ বন্যায় আক্রান্ত। জেলার ৬৫৩টি আশ্রয় কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ৪০৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বুধবার বিকাল পর্যন্ত সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর ৫টি পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে ১১৬ সে.মি. কুশিয়ারার পানি আমলশীদ পয়েন্টে ৮৩ সে.মি, এ নদীর শেওলা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও শেরপুর পয়েন্টে পানি ২৪, ৯৭ ও ১৫ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেট আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সিলেট গত ২৪ ঘণ্টায় ২৯৮ মি.মি বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী ৪ দিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এমনটি হলে বন্যা পরিস্থিতি সিলেটে আবারও ভয়াবহ হবে।
প্রসঙ্গত-সিলেটে গত ২৭শে মে থেকে আগাম বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দুই সপ্তাহ ব্যাপী স্থায়ী এ বন্যায় পানিবন্দী ছিলেন প্রায় ১০ লাখ মানুষ। প্রথম বন্যার পানি পুরোপুরি নামার আগেই ১৫ই জুন থেকে ফের বন্যার কবলে পড়ে এই জনপদ। বিশেষ করে ঈদুল আযহার দিন ভোররাত থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার অতিভারী বর্ষণে পানিবন্দি হন মহানগরসহ পুরো জেলার লাখ লাখ মানুষ। পরবর্তী এক সপ্তাহ বন্যা পরিস্থিতি ছিলো ভয়াবহ। এরপর পানি নামতে শুরু করে। তবে সে গতি ছিলো খুব ধীর।
দ্বিতীয় দফা বন্যা শেষ হওয়ার আগেই গত সোমবার থেকে সিলেটে ধাক্কা দেয় তৃতীয় দফা বন্যা। রবিবার (৩০ জুন) দিনভর সিলেটে থেমে ও উজানে ভারী বৃষ্টির ফলে নতুন করে বন্যা দেখা দিয়েছে। পাউবো সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। যার জন্য পানি বাড়ছ। আবহাওয়া ভালো হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান বলেন, বন্যার আগাম প্রস্তুতির কথা আগেই বলা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে বন্যার পানিতে মাছ ধরতে গিয়ে বিয়ানীবাজারে এক যুবক ডুবে মারা গেছেন। পাবেল আহমদ (২৫) নামের ওই যুবক বুধবার ভোরে বাড়ির পাশে মাছ ধরতে যায়। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও সে বাড়ি ফিরে না আসায় তার পিতা রফিক উদ্দিন তাকে খোজাঁখুজি শুরু করেন। একপর্যায়ে মাছ ধরার স্থানে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। সেখান থেকে পাবেলকে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পাবেলের বাড়ি উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের কালাইউরা গ্রামে। বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেবদুলাল ধর জানান, মূলত পানিতে ডুবেই পাবেলের মৃত্যু হয়েছে।
খবর পেতে সিলেটের আলাপ লাইক পেইজে ( LIKE ) দিতে ক্লিক করুন
সিলেট আলাপ// মাহফুজ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : এড. রিপা
সম্পাদক ও প্রকাশক : কুলসুমা বেগম(কলি)
নির্বাহী সম্পাদক : জিল্লুর রহমান
প্রধান কার্যালয় : আরকে মিশন রোড, ঢাকা।
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : আম্বরখানা, সিলেট-৩১00।
ইমেইল : sylheteralap@gmail.com
যোগাযোগ : 017184414066